×
ঢাকা, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানবাধিকার ও সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে সংসদে উত্তাপ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৬ ২১:০৬:২১
মানবাধিকার ও সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে সংসদে উত্তাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’ এবং ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল’ পাসের প্রতিবাদে অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন চলাকালে তারা ওয়াকআউট করেন।

তিনটি বিল পাসের দিনটিকে সংসদের জন্য ‘কালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিরোধী দলের নেতারা। একই সঙ্গে স্পিকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে তারা বলেন, সংসদে বিরোধী দলের মতামত যথাযথভাবে গুরুত্ব পায়নি। তাদের দাবি, এসব আইনের মাধ্যমে জনগণের মানবাধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং ধর্মীয় মূল্যবোধও উপেক্ষা করা হয়েছে।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্পিকারের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চাইলেও তাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। বরং স্পিকার তার সঙ্গে মশকরা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ধরনের আচরণকে অত্যন্ত হতাশাজনক ও পক্ষপাতমূলক বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।

তার অভিযোগ, বিরোধী দলের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়েই সরকার তাড়াহুড়ো করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’ সংসদে উত্থাপন ও পাস করেছে। বিল দুটিতে স্বাধীনভাবে তদন্ত পরিচালনার ন্যূনতম সুযোগও রাখা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং মানবাধিকার সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আইন করার ক্ষেত্রে আরও স্বাধীনতা ও কার্যকর তদন্তের সুযোগ থাকা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বিরোধী দলের বক্তব্য ও আপত্তিকে আমলে না নিয়েই সরকার বিলগুলো দ্রুত পাস করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে, সংসদে পাস হওয়া ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল’ নিয়ে কঠোর আপত্তি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় মুখপাত্র নজিবুর রহমান। তিনি বিলটিকে সরাসরি কোরআন ও সুন্নাহবিরোধী বলে অভিহিত করেন।

নজিবুর রহমান আইনমন্ত্রীরও সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, ইসলামের মৌলিক ধারণা সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান না রেখেই আইনমন্ত্রী সংসদে সম্পত্তি হস্তান্তর বিলের বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন।

জামায়াতের এই সংসদীয় মুখপাত্র আরও বলেন, সংসদের স্পিকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। কিন্তু স্পিকার সেই দায়িত্ব পালনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিল নিয়েও সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন নজিবুর রহমান। তার দাবি, মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধের আইনকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার পরিবর্তে সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এর কার্যকারিতা কমিয়ে দিয়ে সংসদে পাস করেছে।

পাস হওয়া আইনটিকে ‘কালো আইন’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে জনগণের মানবাধিকার হরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে গুম ও হত্যার নতুন সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নজিবুর রহমান আরও বলেন, গত ১৭ বছরের সীমাহীন নির্যাতনের বিষয়গুলো ভুলে গিয়ে সরকার আবারও পুরোনো পদ্ধতিতেই দেশ পরিচালনা করছে। এসব কারণে তিনটি বিল পাসের প্রতিবাদে বিরোধী দলের সংসদ থেকে ওয়াকআউটের সিদ্ধান্তকে তিনি সমর্থন করেন।

বিরোধী দলীয় নেতাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এসব আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংসদে আরও বিস্তৃত আলোচনা এবং বিরোধী পক্ষের মতামত গ্রহণের প্রয়োজন ছিল। তাদের মতে, আইনগুলোর বিভিন্ন ধারা নিয়ে যে আপত্তি ও উদ্বেগ রয়েছে, সেগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই বিল পাস করা হয়েছে।

এদিকে, তিনটি বিলকে কেন্দ্র করে সংসদে বিরোধী দলের আপত্তি এবং ওয়াকআউটের ঘটনায় অধিবেশনে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিলগুলো পাসের পর স্পিকারের ভূমিকা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের বিষয়টি নিয়ে বিরোধী নেতাদের বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে