×
ঢাকা, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ, রেজিস্ট্রেশন অফিসে দুদকের অভিযান

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৬ ২০:৫৪:১৯
কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ, রেজিস্ট্রেশন অফিসে দুদকের অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য, দালালদের দৌরাত্ম্য এবং জমি রেজিস্ট্রেশনে নানা অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার দুপুরে দুদকের ঢাকা প্রধান কার্যালয় থেকে সহকারী পরিচালক মো. আল আমিনের নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট ইউনিট সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ।

দুদক জানিয়েছে, তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে জমি ও ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন, জমির শ্রেণি পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

অভিযানের সময় দুদকের কর্মকর্তারা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণের পর অভিযান শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

দুদকের তথ্যমতে, তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০টি দলিল রেজিস্ট্রি হয়ে থাকে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব রেজিস্ট্রেশন থেকে প্রতিদিন ঘুষ হিসেবে আদায় হয় কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে ঘুষের প্রায় ৭০ শতাংশ কতিপয় অসাধু সাবরেজিস্ট্রারের পকেটে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, অবশিষ্ট অর্থ বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগ হয়ে যায় দালাল, পিয়ন, অফিস সহকারী, মোহরার, এক্সট্রা মোহরার ও নকলনবিশদের মধ্যে। একই সঙ্গে ভুয়া নামজারিসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জাল কাগজপত্র তৈরি করে জমি রেজিস্ট্রেশন করার অভিযোগও রয়েছে।

দুদক সূত্রে আরও জানা যায়, সাড়ে তিন কোটি টাকা মূল্যের একটি জমি বিক্রি করা হলেও দলিলে এর মূল্য মাত্র ১ কোটি টাকা দেখানোর অভিযোগ কমিশনে এসেছে। এ ছাড়া নকল দলিল তৈরি করে অন্যের জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার অভিযোগও পেয়েছে দুদক। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথি ও রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমও খতিয়ে দেখছেন দুদকের কর্মকর্তারা। অভিযানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এনফোর্সমেন্ট শাখা দ্রুত একটি প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

অভিযান চলাকালে দুদকের কর্মকর্তারা রেজিস্ট্রারের নাম এবং কোন এলাকার জমি কোন রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন হবে—এ সংক্রান্ত তালিকা অফিসের দরজার সামনে টানানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। এতে জমি রেজিস্ট্রেশনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে