×
ঢাকা, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংকটাপন্ন ন্যাশনাল ব্যাংকের নেতৃত্বে বিতর্কিত এমডি আনার তোড়জোড়

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৬ ১৮:৪৬:৩৩
সংকটাপন্ন ন্যাশনাল ব্যাংকের নেতৃত্বে বিতর্কিত এমডি আনার তোড়জোড়

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান চলমান থাকা অবস্থাতেই প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও মোহাম্মদ আবু জাফরকে ন্যাশনাল ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী পদে বসানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ইতোমধ্যে তার নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ফাইলটি বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠিয়েছে।

ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফেরানো এবং খেলাপি ঋণের লাগাম টানার নানা উদ্যোগের মাঝেই একজন বিতর্কিত সাবেক এমডিকে সংকটাপন্ন ন্যাশনাল ব্যাংকের দায়িত্বে আনার চেষ্টা তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক চাপে থাকা ব্যাংকটির পর্ষদ নতুন প্রধান নির্বাহী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগগুলো আদৌ বিবেচনায় নিয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এ বিষয়ে জানতে ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মেলিতা মেহজাবীনের সঙ্গে ফোন ও বার্তা পাঠিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

প্রিমিয়ার ব্যাংকের দায়িত্বে থাকাকালীন আবু জাফরের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, অর্থ পাচার ও জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার বিস্তর অভিযোগ ওঠে। সবচেয়ে বড় বিতর্ক সৃষ্টি হয় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবালের অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) হিসাব থেকে ১ কোটি ১১ লাখ টাকা ও ৩০ হাজার ডলার তোলার সুযোগ করে দেওয়ার ঘটনায়। দুদক এই ঘটনায় আবু জাফরের সরাসরি সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখছে।

গত ১৬ এপ্রিল দুদকের জারি করা নোটিসে প্রিমিয়ার ব্যাংকের বনানী শাখা থেকে ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর ফ্রিজ করা হিসাব থেকে অর্থ সরানোর বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনার কথা জানানো হয়। এই অনিয়মের বিষয়ে ব্যাংকের তৎকালীন শীর্ষ নির্বাহীদের ভূমিকা ও বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থাটি।

আবু জাফরের সাম্প্রতিক ব্যাংকিং ক্যারিয়ার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ২৪ এপ্রিল প্রিমিয়ার ব্যাংকের এমডি হিসেবে যোগ দেন তিনি। তবে অনিয়মের অভিযোগে এক বছরের মাথায় ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর তাকে ছুটিতে পাঠানো হয় এবং ১৭ ডিসেম্বর তার সাথে চুক্তি বাতিল করে পর্ষদ। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মতি নিয়ে ২০২৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তা কার্যকর করা হয়।

প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে বরখাস্তের পরই ন্যাশনাল ব্যাংক তাকে নতুন এমডি ও সিইও হিসেবে পেতে তৎপর হয়ে ওঠে। বর্তমানে তার নিয়োগের প্রস্তাবটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। এমন এক সময়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো যখন ন্যাশনাল ব্যাংক নিজেই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চালাচ্ছে।

আর্থিক জালিয়াতি ও ফ্রিজ করা হিসাবের টাকা লোপাটের মতো মারাত্মক অভিযোগ অনুসন্ধানের মুখেই যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাকে ছাড়পত্র দেয়, তবে তা ব্যাংকিং খাতের পেশাদারিত্ব ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলবে। অবশ্য আইনি দৃষ্টিতে তদন্ত চলাই অপরাধ প্রমাণের চূড়ান্ত রূপ নয়, এবং তার নিয়োগের পুরো বিষয়টি এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপরই নির্ভর করছে।

এসউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে