×
ঢাকা, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শুধু শরীর চুলকিয়ে মাসে আয় সাড়ে ১৮ লাখ টাকা!

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৬ ১৮:২৩:০৬
শুধু শরীর চুলকিয়ে মাসে আয় সাড়ে ১৮ লাখ টাকা!

নিজস্ব প্রতিবেদক : চুলকানি হলে সাধারণত মানুষ নিজেই শরীরের সেই অংশে হাত দিয়ে চুলকান। কখনো পরিবারের কাউকেও একটু চুলকে দিতে বলা হয়। তবে দক্ষিণ চীনের ৩২ বছর বয়সী ঝাং শিয়াওছিয়াও চুলকিয়ে দেওয়াকেই বানিয়ে ফেলেছেন পেশা। আর এই অভিনব ব্যবসা থেকেই তিনি এখন মাসে প্রায় এক লাখ ইউয়ান আয় করছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ১৮ লাখ টাকা।

শেনঝেনের বাওআন জেলায় মে মাসের শুরুতে ‘সুমা’ নামে প্রথম দোকান খোলেন ঝাং। এর এক মাসের মধ্যেই ফুতিয়ান জেলায় দ্বিতীয় শাখা চালু করেন তিনি। বর্তমানে দুই দোকান মিলিয়ে তার মাসিক আয় প্রায় এক লাখ ইউয়ান।

তবে এখানে সাধারণভাবে চুলকিয়ে দেওয়া হয় না। বিশেষভাবে তৈরি সূচালো নখ ব্যবহার করেন কর্মীরা। আর গ্রাহক ম্যাসাজের মতো বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে থাকেন। এরপর কর্মীরা খুব হালকা হাতে শরীরের বিভিন্ন অংশ চুলকিয়ে দেন।

এই সেবার জন্য এক ঘণ্টায় গ্রাহককে দিতে হয় ৩০০ ইউয়ান, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার টাকা। ঝাংয়ের দাবি, এই সেবার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের মানসিক চাপ কমাতে এবং ঘুমের মান ভালো করতে সহায়তা করা। অনেক গ্রাহক নির্দিষ্ট জায়গায় চুলকানোর সময় স্বস্তি অনুভব করেন, আবার কারও কারও হাসিও পায়।

ঝাং জানান, বড় শহরের মানুষের ব্যস্ততা ও মানসিক চাপ অনেক বেশি। ফলে প্রচলিত ম্যাসাজের বাইরে ভিন্ন ধরনের এই সেবারও চাহিদা তৈরি হয়েছে। তার দুই দোকানে নারী-পুরুষ উভয় ধরনের গ্রাহকই আসেন। তবে গ্রাহকদের প্রায় ৭০ শতাংশ পুরুষ। কয়েকজন গ্রাহক আবার দাবি করেছেন, সাধারণ ম্যাসাজের তুলনায় এই সেবা তাদের কাছে বেশি আরামদায়ক মনে হয়েছে।

চীনে এ ধরনের ব্যবসার প্রচলিত কোনো মডেল না থাকায় ঝাংকে একেবারে শূন্য থেকে ধারণাটি গড়ে তুলতে হয়েছে। কীভাবে এবং কতটা চুলকালে গ্রাহকেরা সবচেয়ে বেশি স্বস্তি পাবেন, তা নিয়েও তাকে নিজে গবেষণা করতে হয়েছে।

তবে এই ব্যবসায় আসার আগে ঝাংয়ের ক্যারিয়ারে ছিল নানা উত্থান-পতন। হুবেই প্রদেশের বাসিন্দা এই যুবক বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করার পর মাত্র এক বছরেই সাত ধরনের চাকরি করেছেন। ৩০ বছর বয়সের আগেই আন্তঃদেশীয় অনলাইন বাণিজ্যে দুটি প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু কোনোটিই সফল হয়নি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরির কাজেও যুক্ত হন, সেখানেও প্রত্যাশিত সাফল্য পাননি।

এরপর গত বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছোট ভিডিও দেখতে গিয়ে একটি ভিডিও তার নজরে আসে। সেখানে এক নারী তার স্বামীকে পিঠ চুলকিয়ে দিচ্ছিলেন। ভিডিওটির মন্তব্যে অনেকে জানান, কেউ তাদেরও এভাবে চুলকিয়ে দিলে তারা এর জন্য টাকা দিতে রাজি। সেখান থেকেই ঝাংয়ের মাথায় অভিনব ব্যবসার ধারণাটি আসে।

ছোটবেলার একটি স্মৃতিও তাকে অনুপ্রাণিত করে। ঝাংয়ের বাবা প্রায়ই তার পিঠ চুলকিয়ে দিতেন। এতে তিনি স্বস্তি পেতেন এবং শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়তেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বুঝতে পারেন, মানুষের কাছে এই ধরনের সেবার আলাদা চাহিদা তৈরি হতে পারে।

এখন ঝাংয়ের লক্ষ্য পুরো চীনে ১০০টি শাখা চালু করা। শুধু ব্যবসা সম্প্রসারণ নয়, ‘চুলকিয়ে দেওয়া’কে একটি পরিচিত ও স্বীকৃত পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করারও স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

তার এই অভিনব ব্যবসা নিয়ে চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে নানা আলোচনা ও হাস্যরস। কেউ প্রশিক্ষণ নিয়ে অন্য শহরে দোকান খোলার আগ্রহ দেখিয়েছেন। আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, একবার চুলকানোর জন্য সত্যিই কত মানুষ ৩০০ ইউয়ান দিতে রাজি হবেন। তবে গ্রাহকদের উপস্থিতি ও ব্যবসার আয় বলছে, অন্তত এখন পর্যন্ত ঝাংয়ের অভিনব উদ্যোগ বেশ ভালোভাবেই সাড়া ফেলেছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে