ঢাকা, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬

ওমানকে ট্রাম্পের বোমা হামলার হুমকি, বাড়ল উত্তেজনা

২০২৬ আগস্ট ১৭ ২১:০৮:৪৯
ওমানকে ট্রাম্পের বোমা হামলার হুমকি, বাড়ল উত্তেজনা

আন্তর্জাতিকপ্রতিবেদক: ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা যখন জোরালো হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে মধ্যস্থতাকারী ওমানকে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি দেশটির শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি যোগাযোগ থাকার কথাও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন তিনি।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরান ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনায় ওমানের ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ওমান যদি আলোচনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে দেশটির বিরুদ্ধে ‘ভয়াবহ বোমা হামলা’ চালানো হবে।

ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের আগে শনিবার ইরান জানিয়েছিল, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা কারিগরি আলোচনার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নতুন রুটের মানচিত্র নিয়ে ওমানের সঙ্গে তাদের সমঝোতা হয়েছে। ফলে ইরান-ওমানের এই সমঝোতার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকি নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে।

ইরান প্রসঙ্গে আরও কঠোর অবস্থানের কথা জানান ট্রাম্প। তেহরানকে ‘আত্মসমর্পণের সাদা পতাকা’ ওড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইরানিরা ভালো পোকার খেলোয়াড় হলেও তারা এখন হেরে যাচ্ছে।

এদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ শক্তিশালী সংগঠন আইআরজিসির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি যোগাযোগ থাকার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, আইআরজিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কথা বলছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে একটি ব্যাকচ্যানেল যোগাযোগ চালু রয়েছে।

গাজা পরিস্থিতি নিয়েও সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইসরায়েলের গাজায় হামলা চালানো উচিত নয়। তার দাবি, হামাস অস্ত্র সমর্পণে সম্মত হয়েছে।

হামাসের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের আলাদা যোগাযোগের চ্যানেল থাকার কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংগঠনটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত হামাস অস্ত্র ছেড়ে দিচ্ছে।

ট্রাম্পের এসব মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে তার প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ চলছে। ওয়াশিংটন এই পরিকল্পনাকে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন ট্রাম্প। দেশটির নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে নিরপেক্ষ দূরত্ব বজায় রাখাই তার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হবে।

তবে ভবিষ্যতে ইসরায়েলের কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীকে সমর্থন করার সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেননি তিনি। ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের নির্বাচন থেকে দূরে থাকাই তার কাছে সবচেয়ে উপযুক্ত মনে হলেও প্রয়োজনে তিনি কোনো প্রার্থীকে সমর্থন করতে পারেন।

মিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে