ঢাকা, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬

ঢাকার অনুরোধ, দিল্লির জবাব—হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে এলো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

২০২৬ আগস্ট ১৭ ০৯:৫৬:২৯
ঢাকার অনুরোধ, দিল্লির জবাব—হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে এলো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে দেশে ফেরানোর বিষয়ে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও আলোচনায় শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ঢাকার এই অবস্থানের মধ্যেই শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের অবস্থান নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

রোববার (১৬ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি দাবি করেছে, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে কি না—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের সরকারের পরিবর্তে দেশটির বিচার বিভাগ ও আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হতে পারে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে ভারতের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে। এটি সরাসরি রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে নেওয়া হবে না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালতের প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যেসব অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় কি না—তা যাচাই করা হতে পারে।

অন্য এক ভারতীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা নিজেই চলতি বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তবে তার প্রত্যর্পণের অনুরোধকে ঢাকা-দিল্লির সামগ্রিক কূটনৈতিক সম্পর্ক থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিষয়টি পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে বলেও জানিয়েছিল নয়াদিল্লি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাতে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ২০১৩ সালের বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র সংযুক্ত করেই শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে অভিযুক্ত, দণ্ডিত ব্যক্তি কিংবা আদালতের সাজা কার্যকরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যক্তিকে এক দেশ থেকে অন্য দেশে হস্তান্তরের বিধান রয়েছে।

চুক্তিতে হস্তান্তরযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকার কথা বলা হয়েছে।

তবে চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে রাজনৈতিক প্রকৃতির অপরাধের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ না করার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যা, অনিচ্ছাকৃত নরহত্যা, হামলা, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার এবং হত্যায় প্ররোচনাসহ কয়েকটি অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা না করার বিধান রয়েছে।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইনের বিধানও প্রাসঙ্গিক হতে পারে। ওই আইনে পালিয়ে যাওয়া অভিযুক্ত বা অপরাধীদের প্রত্যর্পণসংক্রান্ত প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার, পাসপোর্ট অ্যান্ড ভিসা (সিপিভি) বিভাগ প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত বিষয়ে নোডাল কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করে। কোনো চুক্তি বা ব্যবস্থার আওতায় প্রত্যর্পণের আবেদন গ্রহণযোগ্য মনে হলে বিষয়টি তদন্তের জন্য ইনকোয়ারি ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

তদন্ত শেষে ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন, অভিযুক্তকে হস্তান্তরের মতো প্রাথমিকভাবে গ্রহণযোগ্য মামলা রয়েছে, তাহলে তিনি প্রত্যর্পণের সুপারিশ করতে পারেন। অন্যদিকে, অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিকভাবে যথেষ্ট ভিত্তি না থাকলে অভিযুক্তকে মুক্তি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এখন শুধু ঢাকা-দিল্লির রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় নয়; ভারতের বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি, দেশটির আইন এবং বিচারিক প্রক্রিয়াও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে