ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

৪২ ঋণখেলাপির বিদেশি সম্পদ ফেরাতে আন্তর্জাতিক অভিযান

২০২৬ আগস্ট ১০ ১৮:০১:০৭
৪২ ঋণখেলাপির বিদেশি সম্পদ ফেরাতে আন্তর্জাতিক অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংক খাত থেকে লুটে নেওয়া ও বিদেশে পাচার করা অর্থ উদ্ধারে এবার বড় ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শীর্ষ ১১টি শিল্পগোষ্ঠীর পর আরও ৪২টি বড় ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত, জব্দ ও দেশে ফিরিয়ে আনতে আটটি আন্তর্জাতিক আইনি ও তদন্তকারী সংস্থাকে কাজে লাগানো হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ১২টি দেশে এসব প্রতিষ্ঠানের নামে-বেনামে গড়ে তোলা সম্পদের অবস্থান শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন ও আদালতনির্ভর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব সম্পদ উদ্ধারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যে চুক্তি ও কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে এসব প্রতিষ্ঠানে ঋণ দেওয়া ৩৮টি ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিদেশে থাকা সম্পদ উদ্ধারের অগ্রগতি ও পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরা অংশ নেন। যেসব ব্যাংক এখনো আন্তর্জাতিক আইনি ও পেশাদার পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তি করেনি, তাদের দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরোর (সিআইবি) ডাটাবেজ বিশ্লেষণে এসব খেলাপি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তালিকায় এসবি এক্সিম গ্রুপ, হাবিব গ্রুপ, ইয়াসীর গ্রুপ, এডব্লিউআর গ্রুপ, লিবার্টি গ্রুপ, প্রিমিয়ার গ্রুপ, লস্কর গ্রুপ ও সাদ মুসা গ্রুপের মতো বড় শিল্পগোষ্ঠীর নাম রয়েছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের বিদেশে পাচার করা সম্পদ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড, হংকং, চীন, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় ছড়িয়ে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধারের কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে আটটি আন্তর্জাতিক আইনি ও পেশাদার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। এগুলো হলো—গ্র্যান্ট থর্নটন, আরআই কনসোর্টিয়াম, বেকার ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড পিডব্লিউসি, ডিএলএ পাইপার অ্যান্ড ক্রোল, ইওয়াই অ্যান্ড ডেন্টনস, রহমান রাভেলি অ্যান্ড ইন্টারপাথ, বিসিজি অ্যান্ড এইচএইচআর এবং অ্যানিমাস অ্যাসোসিয়েটস।

বিদেশে থাকা সম্পদ উদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে আগাম কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না। পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হবে ‘নো উইন, নো পে’ ভিত্তিতে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক পরামর্শক সংস্থাগুলো নিজেদের খরচে সম্পদ শনাক্ত করা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় আইনি লড়াই চালাবে। পরবর্তী সময়ে উদ্ধার হওয়া সম্পদের নির্ধারিত একটি অংশ তাদের পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, সম্পদ উদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথমে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে বিদেশে থাকা সম্পদের অবস্থান ও আনুমানিক আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী সম্পদ ফ্রিজ বা জব্দ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরবর্তী ধাপে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জব্দ করা সম্পদ বিক্রি বা অন্যভাবে নিষ্পত্তি করা হবে। সেখান থেকে পাওয়া অর্থ বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের খেলাপি ঋণের বিপরীতে সমন্বয় করা হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ধাপে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার এবং শীর্ষ ১০টি বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যৌথ তদন্ত শুরু করা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সিআইসি, সিআইডি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত কার্যক্রমে দেশে-বিদেশে তাদের প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এবার দ্বিতীয় ধাপে ৪২টি বড় ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের বিদেশে থাকা সম্পদের বিরুদ্ধে একই ধরনের কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ দেশে ফিরিয়ে এনে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের চাপ কমানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এসউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে