ঢাকা, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬

এস আলমের শাটডাউনে ডিএসইর বন্ধ কোম্পানির সংখ্যা দাঁড়াল ৩৫

২০২৬ আগস্ট ০৭ ১৭:৪৭:৪৮
এস আলমের শাটডাউনে ডিএসইর বন্ধ কোম্পানির সংখ্যা দাঁড়াল ৩৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া ও দীর্ঘদিন উৎপাদন কার্যক্রমে না থাকা তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে দেশের শেয়ারবাজারে। সর্বশেষ এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেডের কারখানা বন্ধ হওয়ায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তালিকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫টিতে। এতে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা তালিকাভুক্ত কোম্পানি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

ডিএসইর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট থেকে এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলসের কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে তাদের পক্ষে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এক প্রকাশিত তথ্যে কোম্পানিটি জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে ঋণদাতা ব্যাংকগুলো এলসি খোলার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করে। ফলে উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও রাসায়নিক আমদানি ব্যাহত হয়।

এর পাশাপাশি দক্ষ শ্রমিকদের একটি বড় অংশ চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ায় কোম্পানিটিতে তীব্র জনবল সংকট তৈরি হয়। কাঁচামাল ও রাসায়নিকের সরবরাহে বিঘ্ন এবং জনবল সংকট—সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কোম্পানিটি।

তবে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে জানিয়ে এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস বলেছে, পরিস্থিতির উন্নতি হলে তারা আবার উৎপাদন শুরু করতে চায়। দ্রুত উৎপাদন শুরু করতে না পারলে কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

দরপতনে চাপে শেয়ার

কারখানা বন্ধের খবরে কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গত ১ আগস্ট কারখানা বন্ধ হওয়ার পর থেকে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে ৯.২৮ শতাংশ। বৃহস্পতিবারও কোম্পানিটির শেয়ারের দর ২.৩১ শতাংশ কমে ১২ টাকা ৭০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

এর আগে চলতি বছর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করতে ব্যর্থ হওয়ায় কোম্পানিটিকে ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে, কোম্পানিটি ২০২৪ সালের মার্চে শেষ হওয়া প্রান্তিকের পর থেকে কোনো আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করেনি। ফলে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

বন্ধ কোম্পানির সংখ্যা বাড়ছেই

এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস নতুন করে তালিকায় যুক্ত হওয়ায় ডিএসইতে বন্ধ বা অকার্যকর শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এখন ৩৫টি। ডিএসই সূত্র জানায়, কিছু কোম্পানি তাদের কার্যক্রমে সমস্যার কথা এক্সচেঞ্জকে জানিয়েছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান কারখানা বন্ধের তথ্য প্রকাশ করেনি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডিএসইর পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট কারখানার কার্যক্রম ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে।

এসব কোম্পানির বেশির ভাগই ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে উৎপাদন বন্ধ করেছে। তবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এর চেয়েও দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ক্রিয় রয়েছে।

ডিএসইতে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকা তালিকাভুক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান হলো মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজ। প্রতিষ্ঠানটি ২০০২ সাল থেকে বন্ধ। এছাড়া বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডস ২০১৬ সাল থেকে উৎপাদন কার্যক্রমে নেই।

বন্ধ কোম্পানির তালিকায় ইস্পাত, বস্ত্র, বিদ্যুৎ, সিমেন্ট, প্রকৌশল, সিরামিক, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রাসায়নিক খাতের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সর্বশেষ তালিকায় যুক্ত হয়েছে অ্যাক্টিভ ফাইন কেমিক্যালস, এএফসি এগ্রো বায়োটেক এবং এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস।

কঠোর পদক্ষেপের পথে নিয়ন্ত্রকরা

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এক্সচেঞ্জটিতে মোট ৩৬০টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ১৬০টি, ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৭৪টি এবং ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে ১২৬টি কোম্পানি। বন্ধ অনেক প্রতিষ্ঠানই ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিষ্ক্রিয় কোম্পানির সংখ্যা বাড়তে থাকায় শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে পুনর্গঠন, উদ্যোক্তা বা স্পনসর পরিবর্তন, একীভূতকরণ, অধিগ্রহণ কিংবা প্রয়োজন হলে তালিকাচ্যুতির মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এতে বাজারে শৃঙ্খলা বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বা নিষ্ক্রিয় কোম্পানিগুলো নিয়ে বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তাও কমবে।

এসউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে