ঢাকা, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

শেয়ারবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিএসইসিকে ১১ দফা সুপারিশ

২০২৬ জুলাই ২৬ ১৮:৩৪:০৭
শেয়ারবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিএসইসিকে ১১ দফা সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে ১১ দফা সুপারিশ পেশ করেছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির মতে, এসব প্রস্তাব দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে।

রোববার সংগঠনটির সভাপতি কাজী মোহাম্মদ নজরুল বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ১১ দফা সুপারিশপত্র তুলে দেন। এতে বাজারের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সুপারিশপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং নীতিগত দুর্বলতার কারণে দেশের পুঁজিবাজার গভীর সংকটে রয়েছে। তবে বর্তমান কমিশনের নেতৃত্বে বাজারে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে বাজারের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে তাদের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংগঠনটির অন্যতম দাবি হলো, প্রস্তাবিত মার্জিন ঋণ নীতিমালায় বিভিন্ন শেয়ারের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ঋণসীমা নির্ধারণ না করে সব শেয়ারের ক্ষেত্রে সমান মার্জিন সুবিধা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি আগামী তিন মাসের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ৮০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ, সর্বোচ্চ আবেদনসীমা পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং পুনরায় লটারিভিত্তিক বরাদ্দ চালুরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ডিএসইর ‘রেড জোনে’ থাকা কোম্পানিগুলোর বিষয়ে সংগঠনটি বলেছে, তালিকাচ্যুতির আগে সেগুলোকে পুনর্গঠনের জন্য অন্তত দুই বছর সময় দেওয়া উচিত। এরপরও তালিকাচ্যুতির প্রয়োজন হলে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সব শেয়ার বাজারদর অথবা ইস্যু মূল্যের মধ্যে যেটি বেশি, সেই দামে বাইব্যাক করার বাধ্যবাধকতা আরোপের দাবি জানানো হয়েছে।

সুপারিশে আরও বলা হয়েছে, দেশের শেয়ারবাজারে প্রায় ৮০ শতাংশ বিনিয়োগ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হওয়ায় নীতিনির্ধারণে তাদের প্রতিনিধিদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে বছরে অন্তত চারবার বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় সভা আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে কারসাজি ও অস্বাভাবিক লেনদেন দ্রুত শনাক্ত করতে রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

বাজারে তারল্য বাড়াতে ৩ শতাংশ সুদে ১০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠনেরও প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, আইসিবির মাধ্যমে ব্রোকারেজ হাউজ হয়ে এই অর্থ ৫ শতাংশ সুদে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঋণ হিসেবে বিতরণ করা যেতে পারে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতকে আরও কার্যকর করতে প্রতিটি ফান্ডের কমপক্ষে ৮০ শতাংশ অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি মেয়াদি (ক্লোজড-এন্ড) ফান্ডগুলোর মেয়াদ না বাড়িয়ে সেগুলোকে ওপেন-এন্ড ফান্ডে রূপান্তরের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট-২০১৫-এর কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য শেয়ার বাইব্যাক আইন প্রণয়ন, বিদ্যমান এ, বি, এন ও জেড ক্যাটাগরি বাতিল করে নতুন মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু এবং আন্তর্জাতিক মানের ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার সনদ প্রবর্তনের দাবিও তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের মতে, তাদের ১১ দফা সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে দেশের পুঁজিবাজার আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব হবে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে