ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

ঋণখেলাপিদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ‘এক্সিট প্ল্যান’

২০২৬ জুলাই ১৬ ১৭:৫৫:৫৪
ঋণখেলাপিদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ‘এক্সিট প্ল্যান’

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (ফাইন্যান্স কোম্পানি) খেলাপি ঋণ কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী থাকা ‘মন্দ’ ও ‘চরম খেলাপি’ ঋণ দ্রুত আদায়ের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ ‘এককালীন এক্সিট’ সুবিধা চালু করেছে। নতুন নীতিমালার আওতায় নির্দিষ্ট শ্রেণির ঋণগ্রহীতারা একবারে পুরো মূল ঋণ পরিশোধ করলে পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের ঋণের সুদ আংশিক বা সম্পূর্ণ মওকুফ করা যেতে পারে। তবে কোনো অবস্থাতেই ঋণের আসল অর্থ মওকুফ করা যাবে না।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্স কোম্পানি প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (এফসিআরপিডি) ‘অনাদায়ি ঋণ আদায় বা সমন্বয়ে বিশেষ এক্সিট সংক্রান্ত নীতিমালা’ শীর্ষক একটি সার্কুলার জারি করে। এর আগে একই ধরনের সুবিধা দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের জন্যও চালু করা হয়েছিল। এবার সেই সুবিধা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও সম্প্রসারণ করা হলো।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অনেক উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী অনিচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের জন্য একটি সহজ সমাধান তৈরি করতেই এই বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এই সুবিধা নিতে হলে গ্রাহককে তার বকেয়া মূল ঋণ এককালীন পরিশোধ করে ঋণ হিসাব সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি বড় অঙ্কের সুদ মওকুফ করতে চায়, তাহলে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা (অডিট) ও ইন্টারনাল কন্ট্রোল বিভাগের মতামত ও অনুমোদন নিতে হবে। এর মাধ্যমে অনিয়ম বা অপব্যবহারের ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে সব ঋণখেলাপি এই সুবিধা পাবেন না। যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ঋণের অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি, প্রতারণা কিংবা অন্য খাতে পাচারের সঙ্গে জড়িত, তারা এই বিশেষ এক্সিট সুবিধার আওতায় আসবেন না। এছাড়া ৬ আগস্ট ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৬-এর মধ্যে পুনঃতফসিল হওয়া মন্দ ঋণের গ্রাহকেরাও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই সুবিধা নিতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, গ্রামীণ প্রান্তিক কৃষকদের স্বল্পমেয়াদি কৃষি ঋণ এবং কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে। নতুন ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩-এর আওতায় জারি করা এই নির্দেশনা ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। দেশের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নিজ উদ্যোগে যোগ্য গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই সুযোগ সম্পর্কে অবহিত করতে বলা হয়েছে। তবে এই বিশেষ সুবিধা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এরপর আর এই নীতিমালার আওতায় আবেদন করা যাবে না।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে