ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

ফোনে মেসেজ পাঠালেও হতে পারে মৃত্যুদণ্ড

২০২৬ জুলাই ১৬ ১০:৩৮:২৩
ফোনে মেসেজ পাঠালেও হতে পারে মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাইবার স্পেস ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচা, সরবরাহ বা এ-সংক্রান্ত যোগাযোগের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল ২০২৬’ পাস হয়েছে। গত ১৩ জুলাই বিলটি পাস হলেও এখনো এর গেজেট প্রকাশ হয়নি।

নতুন আইনে ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক কারবারের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে সরাসরি মাদক উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক রাখা হয়নি। এই বিধান নিয়েই আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশোধনী এনে নতুন এই বিল পাস করা হয়েছে। সংশোধিত আইনে মাদকপ্রবণ এলাকায় পৃথক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ, ই-ওয়ালেট বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচা, সরবরাহ, প্রচার বা এ-সংক্রান্ত যোগাযোগ অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এ ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা হতে পারে। এছাড়া অপরাধে ব্যবহৃত ডিজিটাল ডিভাইস বা অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা আদালতকে দেওয়া হয়েছে।

নতুন আইনে ডিজিটাল অপরাধের ক্ষেত্রে মাদক উদ্ধার বাধ্যতামূলক না রাখার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনজীবীদের একটি অংশ।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফেরদৌস হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, শুধু ডিজিটাল যোগাযোগের তথ্যের ভিত্তিতে গুরুতর শাস্তির সুযোগ তৈরি হলে আইনের অপব্যবহারের ঝুঁকি থাকতে পারে।

আইনজীবী মো. নাজমুল হাসান বলেন, মাদক মামলায় অনেক সময় আলামত ও পরীক্ষাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে মামলা দুর্বল হয়ে যায়। নতুন ব্যবস্থায় ডিজিটাল তথ্যের ভিত্তিতে মামলা করার সুযোগ বাড়লে নিরপরাধ ব্যক্তির হয়রানির ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

তবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ মনে করেন, অনলাইনে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ জানান, করোনা মহামারির পর অনলাইনে মাদক কেনাবেচার প্রবণতা বেড়েছে। ইয়াবা, ফেনসিডিল, আইস, এলএসডি ও কোকেনসহ বিভিন্ন মাদক ডিজিটাল নজরদারির মাধ্যমে শনাক্ত ও উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তার মতে, সাইবার মাধ্যমে মাদকের বিস্তার ঠেকাতেই নতুন আইনি কাঠামোর প্রয়োজন হয়েছে।

মদপানের বিষয়ে তিনি জানান, বৈধ পারমিটধারীরা নিয়ম মেনে মদ গ্রহণ করতে পারবেন। তবে লাইসেন্স ছাড়া বিক্রি বা অবৈধ বাণিজ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

সংশোধিত আইনে মাদকদ্রব্যকে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে—

‘ক’ শ্রেণি: পপি গাছ, আফিম, কোকেন, হেরোইন, মরফিনসহ মারাত্মক মনোদৈহিক প্রতিক্রিয়াসৃষ্টিকারী বিভিন্ন মাদক।

‘খ’ শ্রেণি: গাঁজা, ভাঙ, সিডি এবং নির্ধারিত মাত্রার বেশি অ্যালকোহলযুক্ত ওয়াইন, বিয়ার, চোলাইমদসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য।

‘গ’ শ্রেণি: মিথানল, স্পিরিট, তাঁড়ি, পঁচুইসহ মানুষের জন্য অনুপযুক্ত বিভিন্ন রাসায়নিক তরল।

নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর এর প্রয়োগ, ডিজিটাল প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা এবং অপব্যবহার ঠেকানোর বিষয়গুলোই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে