ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

ফেসবুক আয় নিয়ে ১৩ এমপিকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

২০২৬ জুলাই ০২ ১০:১৫:২৯
ফেসবুক আয় নিয়ে ১৩ এমপিকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের অন্তত ১৩ জন সংসদ সদস্য ফেসবুকের কনটেন্ট মনিটাইজেশন কর্মসূচি থেকে আয় করছেন বলে দাবি করেছে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাব। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেটার নীতিমালা অনুযায়ী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জন্য এ ধরনের আয় সীমাবদ্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট এমপিদের বেশ কয়েকটি ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে এখনো মনিটাইজেশন সক্রিয় রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মনিটাইজেশন চালু থাকা ভেরিফায়েড ১৩টি ফেসবুক পেজ ও প্রোফাইলের মধ্যে সাতজন বিএনপির, পাঁচজন জামায়াতে ইসলামীর এবং একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রয়েছেন। এ তালিকায় মন্ত্রিসভার তিন সদস্যও আছেন— বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

ডিসমিসল্যাব জানায়, অনুসন্ধানে মেটার প্রকাশ্য পার্টনার-পাবলিশার তালিকা এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান What To Fix–এর সংরক্ষিত মনিটাইজেশন আর্কাইভের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এসব অ্যাকাউন্টে নিয়মিত বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনও প্রদর্শিত হচ্ছে, যা মেটার নীতিমালা বাস্তবায়ন ও সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কয়েকটি ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরও মেটার মনিটাইজেশন কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর নামে পরিচালিত ২২টি আনভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও মনিটাইজেশন সক্রিয় থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম ডিসমিসল্যাবকে বলেন, তাঁর আইটি টিম ফেসবুক পেজ পরিচালনা করে এবং তাঁর জানা মতে তিনি ফেসবুক থেকে কোনো আয় করেন না। তবে তিনি মনে করেন, রাজনীতিবিদদেরও মনিটাইজেশনের সুযোগ থাকা উচিত।

প্রতিবেদনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তাঁর অ্যাকাউন্টটি ফেব্রুয়ারিতে মনিটাইজেশন কর্মসূচিতে যুক্ত হলেও এপ্রিল মাসে তা তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি পেজে মনিটাইজেশন সক্রিয় ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)–এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের নীতিনির্ধারণে প্রভাব রাখতে পারেন এমন ব্যক্তিরা যদি একই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা পান, তাহলে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে এবং জবাবদিহির প্রশ্ন ওঠে।

ডিসমিসল্যাব জানিয়েছে, এ বিষয়ে মেটার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে