ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সাবেক গভর্নরসহ ১০ বাংলাদেশি, রিজার্ভ চুরির মামলায় নতুন মোড়

২০২৬ জুন ১৮ ১০:৩২:২৩
সাবেক গভর্নরসহ ১০ বাংলাদেশি, রিজার্ভ চুরির মামলায় নতুন মোড়

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির বহুল আলোচিত মামলায় সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ দেশি-বিদেশি ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলার ১৫০ পৃষ্ঠার খসড়া চার্জশিট ও ডকেট প্রস্তুত করে আইনি মতামতের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠিয়েছে সিআইডি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ সাত দেশের মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে ফিলিপাইনের ৩৬, বাংলাদেশের ১০, শ্রীলঙ্কার ৮, ভারতের ৪, চীনের ৩, নর্থ কোরিয়ার ২ এবং জাপানের ১ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

খসড়া অভিযোগপত্রে ফরেনসিক বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় সংগ্রহ করা তথ্য-প্রমাণ এবং অর্থপাচারের জটিল নেটওয়ার্কের বিস্তারিত বিবরণ সংযুক্ত করা হয়েছে। মামলার প্রমাণ হিসেবে প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার নথি সংযুক্ত রয়েছে।

যাদের নাম রয়েছে

বাংলাদেশি অভিযুক্তদের মধ্যে ড. আতিউর রহমান ছাড়াও রয়েছেন আনিস এ খান, কে এম আব্দুল ওয়াদুদ, শুভংকর সাহা, রেজাউল করিম, জোবায়ের বিন হুদা, এ এফ এম আসাদুজ্জামান, মেজবাউল হক, আবুল কাসেম এবং মো. সুলতান মাসুদ আহমেদ।

ভারতের অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন প্রিথাম রেড্ডি, সুধীন্দ্র আথ্রেশ, নীলাভান্নান মাদুক্কুর আনন্দন এবং রাশে আস্থানা।

তদন্ত শেষ পর্যায়ে

মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ফিন্যানশিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আল মামুন জানিয়েছেন, তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

তার ভাষ্য, শতভাগ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে একটি নির্ভুল খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেলের আইনি মতামত পাওয়ার পর চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কীভাবে হয়েছিল রিজার্ভ চুরি

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে হ্যাকাররা সুইফট পেমেন্ট সিস্টেমে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সংরক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার সরিয়ে নেয়। এর মধ্যে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনে পাচার করা হয়।

ঘটনার প্রায় ৪০ দিন পর ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই থেকে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি।

তদন্তে উঠে এসেছে নর্থ কোরিয়ার ‘লাজারাস গ্রুপ’

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের সহায়তায় নর্থ কোরীয় হ্যাকার পার্ক জিন হিয়ক ও তার নেতৃত্বাধীন ‘লাজারাস গ্রুপকে’ মূল অপরাধী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থের গতিপথও অনুসন্ধান করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।

১০ বছর পর বিচারের প্রত্যাশা

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, প্রায় এক দশক ধরে চলা তদন্তে দেশি-বিদেশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যাপক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। খসড়া চার্জশিট প্রস্তুত হওয়ায় দেশের অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত চার্জশিট আদালতে দাখিল করে বিচার শুরু করা গেলে তা আর্থিক খাতে সংঘটিত অপরাধের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা হিসেবে কাজ করবে।

মোহাম্মদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে