ঢাকা, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

ইসলামী ব্যাংক সংকটের প্রভাব পুরো ব্যাংকিং খাতে পড়তে পারে: এবিবি চেয়ারম্যান

২০২৬ জুন ১০ ১৭:৫১:২২
ইসলামী ব্যাংক সংকটের প্রভাব পুরো ব্যাংকিং খাতে পড়তে পারে: এবিবি চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে চলমান পরিস্থিতি দেশের ব্যাংকিং খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা (সিইও)। তাদের আশঙ্কা, দেশের বৃহত্তম ব্যাংককে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।

বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় দেশের ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীরা এ উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। এতে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের এমডি ও সিইওরা অংশগ্রহণ করেন।

সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংকের এমডি ও সিইও মাসরুর আরেফিন বলেন, ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি এখন পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে ব্যাংকারদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের মতে, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে চলমান সংকট এখন আর শুধুমাত্র ব্যাংকিং খাতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই; এটি রাজনৈতিক মাত্রাও লাভ করেছে। ফলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মাসরুর আরেফিন আরও বলেন, বিষয়টির রাজনৈতিকীকরণ আমানতকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে ব্যাংকিং খাতের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ব্যাংকার্স সভায় ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের রাজনৈতিক চাপকে উপেক্ষা করে পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

এছাড়া ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি)-তে সঠিক, নির্ভুল ও হালনাগাদ তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্যও ব্যাংকগুলোর প্রতি নির্দেশনা দেন গভর্নর।

বৈঠকে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) সহায়তায় ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন ঋণ সহায়তা প্যাকেজ নিয়েও আলোচনা হয়। এবিবি চেয়ারম্যান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার আওতায় এই অর্থ বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে রপ্তানি ও আমদানি সংক্রান্ত তথ্য প্রদানে ভুল এবং বিলম্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন গভর্নর। বিশেষ করে আমদানি পণ্যের মূল্য ঘোষণার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অসঙ্গতি জাতীয় হিসাব-নিকাশ ও অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানে প্রভাব ফেলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মাসরুর আরেফিন বলেন, বৈশ্বিক বাজারদর যাচাইয়ের জন্য আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম এবং বিভিন্ন অনলাইন উৎস ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমদানিতে অতিমূল্যায়ন কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সভায় ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা, সুশাসন, তথ্যের স্বচ্ছতা এবং এসএমই খাতের অর্থায়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে