ঢাকা, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

২৫ বছর পর বদলাচ্ছে আহমদ ছফার কবরের ঠিকানা!

২০২৬ মে ১১ ১৫:৩৫:৪৯
২৫ বছর পর বদলাচ্ছে আহমদ ছফার কবরের ঠিকানা!

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলা সাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক জগতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব আহমদ ছফার কবর মিরপুরের সাধারণ কবরস্থান থেকে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ডিএনসিসির ১৪তম করপোরেশন সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ডিএনসিসি সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি লেখকের পরিবারের পক্ষে তার ভ্রাতুষ্পুত্র নূরুল আনোয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে কবর স্থানান্তরের আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের সাহিত্য, চিন্তা, সমাজ ও রাজনৈতিক বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে অসামান্য অবদান রাখলেও আহমদ ছফা এখনও প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পুরোপুরি পাননি। সেই বিবেচনায় তাকে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা প্রয়োজন বলে পরিবার মনে করে।

পরে ১৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত করপোরেশন সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় অংশ নেওয়া সদস্যরা কবর স্থানান্তরের বিষয়ে একমত পোষণ করেন। বর্তমানে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগ যাচাই-বাছাই ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করেছে।

এ বিষয়ে নূরুল আনোয়ার বলেন, আহমদ ছফার মৃত্যুর পর থেকেই পরিবারের ইচ্ছা ছিল তাকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করার। তবে সে সময় প্রশাসনিক অনীহার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি আমাদের মনে বেদনা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই আমি ব্যক্তিগতভাবে কবরটি স্থানান্তরের আবেদন করি।”

তিনি আরও জানান, আগের প্রশাসনিক সময়েও এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকারের কাছেও আবেদনটি পুনরায় উপস্থাপন করা হয়। তার ভাষায়, “আহমদ ছফার মতো একজন ব্যক্তিত্বকে তার প্রাপ্য মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়াই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য।”

নূরুল আনোয়ার বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি আহমদ ছফার বর্তমান কবরের জায়গাটি ৯৯ বছরের জন্য বরাদ্দ নিয়েছিলেন। কিন্তু একজন জাতীয় পর্যায়ের বুদ্ধিজীবীকে আরও মর্যাদাপূর্ণ স্থানে সমাহিত করা নৈতিক দায়িত্ব বলেই তিনি মনে করেন।

এই সিদ্ধান্তকে দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছেন প্রাবন্ধিক ও শিক্ষক সলিমুল্লাহ খান। তিনি বলেন, ২০০১ সালের ২৮ জুলাই আহমদ ছফার মৃত্যুর পর তৎকালীন প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে তাকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি সাধারণ কবরস্থানেই শায়িত ছিলেন, যা দেশের সাহিত্য ও মনন জগতের জন্য এক ধরনের অপূর্ণতা ছিল।

তার মতে, রাষ্ট্র দেরিতে হলেও আহমদ ছফাকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেটিকে দেশের সচেতন মানুষ ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করবে।

তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। প্রাবন্ধিক ও সমালোচক মোরশেদ শফিউল হাসান মনে করেন, একজন লেখকের মর্যাদা তার কবর কোথায় সেটির ওপর নির্ভর করে না। তিনি বলেন, “আহমদ ছফার কবর যদি তার জন্মস্থান চট্টগ্রামের গাছবাড়িয়ায় হতো, তাহলে সম্ভবত তিনি নিজেই বেশি খুশি হতেন।”

উল্লেখ্য, আহমদ ছফা ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলা সাহিত্যে প্রবন্ধ, উপন্যাস, কবিতা, অনুবাদ ও সমাজভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তার ‘বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস’ এবং ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ বাংলাদেশের সমাজ-রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক চিন্তাধারার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে আলোচিত ও সমাদৃত গ্রন্থ।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে