ঢাকা, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

মার্কিন বাজারে বড় সংকটে গার্মেন্টস খাত!

২০২৬ মে ১১ ১০:৪৩:২৯
মার্কিন বাজারে বড় সংকটে গার্মেন্টস খাত!

নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। দেশটির ‘রিসিপ্রোকাল’ শুল্কনীতির প্রভাব, ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়া, উচ্চ সুদের হার এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাকে এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য ধীরগতি দেখা গেছে। প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া যেখানে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি কমে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে শিল্পমালিকদের মধ্যে।

শুধু রপ্তানির পরিমাণই নয়, বাংলাদেশি পোশাকের ইউনিট মূল্যও কমেছে। মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের টেক্সটাইল ও পোশাকবিষয়ক সংস্থা অটেক্সার সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, “বৈশ্বিক বাণিজ্যে এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। মার্কিন পাল্টা শুল্ক, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকট এবং দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা—সব মিলিয়ে রপ্তানি খাতের ওপর চাপ বাড়ছে।”

তিনি জানান, অনেক আন্তর্জাতিক ক্রেতা অর্ডার কমিয়ে দিয়েছেন। বড় অর্ডারের পরিবর্তে এখন ছোট ও স্বল্পমেয়াদি অর্ডারে ঝুঁকছেন তারা।

অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি ছিল ৫৯৯ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭.৮ শতাংশ কম। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মোট আমদানি কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৭৩ কোটি ডলারে।

একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৬৬ কোটি ৪৯ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৮.০৮ শতাংশ কম। প্রথম তিন মাসে মোট রপ্তানি কমেছে ৮.৩৮ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়া, উচ্চ সুদের হার, নতুন ট্যারিফ নীতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতা বৈশ্বিক পোশাক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনামের রপ্তানি মার্চে ২.৫২ শতাংশ এবং প্রথম প্রান্তিকে ২.৭৭ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে কম্বোডিয়ার প্রবৃদ্ধি আরও শক্তিশালী—মার্চে ১৬.২২ শতাংশ এবং প্রথম প্রান্তিকে ১৭.৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

চীনের রপ্তানি বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে। মার্চে দেশটির রপ্তানি কমেছে ৩৭.২৪ শতাংশ এবং প্রথম প্রান্তিকে কমেছে ৫২.৯১ শতাংশ। ভারতের ক্ষেত্রেও রপ্তানি ২৭ শতাংশের বেশি কমেছে।

মূল্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মার্চ ২০২৬-এ বাংলাদেশি পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য ছিল প্রতি পিস ২.৮৬ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২.৭৭ শতাংশ কম।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু রপ্তানির পরিমাণ বাড়ালেই হবে না; উচ্চমূল্যের ফ্যাশন ও টেকনিক্যাল টেক্সটাইল পণ্যে প্রবেশ বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি উৎপাদন দক্ষতা, দ্রুত সরবরাহ সক্ষমতা এবং বাণিজ্য কূটনীতি জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে