ঢাকা, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

ভোটের ময়দানে বাংলাদেশকে যেভাবে অস্ত্র বানালো বিজেপি

২০২৬ মে ০৯ ১৮:৫৫:৩৬
ভোটের ময়দানে বাংলাদেশকে যেভাবে অস্ত্র বানালো বিজেপি

নিজস্ব প্রতিবেদক: পশ্চিমবঙ্গ–এর সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক পালাবদলের জন্য নয়, সীমান্ত ও বাংলাদেশ ইস্যুর নতুন রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়েও আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের পর তৃণমূল কংগ্রেস–কে হটিয়ে সরকার গঠন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, ২৯৪ আসনের মধ্যে ঘোষিত ২৯৩টির মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ২০৭টি আসন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। একটি আসনে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির এই বড় জয়ের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, নারী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং দীর্ঘদিনের সরকারবিরোধী মনোভাব ভোটে প্রভাব ফেলেছে। তবে এসব ইস্যুকে বৃহত্তর রাজনৈতিক বয়ানে রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ।

নির্বাচনি প্রচারে বিজেপি সীমান্ত, নাগরিকত্ব, অবৈধ অভিবাসন এবং নিরাপত্তা ইস্যুকে জোরালোভাবে সামনে আনে। দলটি বাংলাদেশকে এমন একটি রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত করে, যার মাধ্যমে নাগরিকত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রশ্নকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়।

বিশেষ করে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)–কে কেন্দ্র করে বিজেপি নিজেকে বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু শরণার্থীদের রক্ষাকর্তা হিসেবে তুলে ধরে। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসন ইস্যুকে তৃণমূলের কথিত ভোটব্যাংক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করে প্রচারণা চালায়।

২০২৪ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে আসে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ–এর বিভিন্ন প্রতিবেদনে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও রাজনৈতিক সহিংসতার বিষয় উঠে আসে। একই সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–ও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানায়।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব ইস্যু পশ্চিমবঙ্গের একাংশের ভোটারের মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা ও পরিচয় সংকটের অনুভূতি আরও জোরালো করে তোলে।

এ নির্বাচনে বিশেষভাবে আলোচনায় ছিল মতুয়া সম্প্রদায়। দেশভাগ ও অভিবাসনের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই জনগোষ্ঠীকে ঘিরে দুই দলই আলাদা রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করে। তৃণমূল কল্যাণমূলক সুবিধা ও সাংস্কৃতিক স্বীকৃতির কথা বললেও বিজেপি নাগরিকত্বের প্রশ্নকে সামনে আনে।

ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াও নির্বাচনে বড় বিতর্ক তৈরি করে। প্রায় ২৭ লাখ মানুষ ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার বিরুদ্ধে আপত্তি জানান। বিরোধীরা অভিযোগ তোলে, সংখ্যালঘু ভোটারদের টার্গেট করা হয়েছে। যদিও বিজেপি এটিকে “গণতান্ত্রিক পরিশুদ্ধি” হিসেবে ব্যাখ্যা করে।

অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের। তিনি বিজেপির প্রচারণাকে সাম্প্রদায়িক বলেও মন্তব্য করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ শুধু প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিক পরিচয় ও নিরাপত্তার প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। বিজেপি স্থানীয় ক্ষোভ, সীমান্ত রাজনীতি এবং জাতীয়তাবাদী বক্তব্যকে একত্র করে নির্বাচনি কৌশল হিসেবে সফলভাবে ব্যবহার করেছে।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে