ঢাকা, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

ক্লোজএন্ড মিউচুয়াল ফান্ড রূপান্তরে নতুন গাইডলাইন বিএসইসি’র

২০২৬ মে ০৮ ০০:১৯:১৪
ক্লোজএন্ড মিউচুয়াল ফান্ড রূপান্তরে নতুন গাইডলাইন বিএসইসি’র

নিজস্ব প্রতিবেদক: মেয়াদি বা ক্লোজএন্ড মিউচুয়াল ফান্ডকে বে-মেয়াদি ওপেনএন্ড ফান্ডে রূপান্তরের জন্য বিস্তারিত নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ সংক্রান্ত গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়।

কমিশনের মতে, ক্লোজএন্ড ফান্ড অবসায়নের পরিবর্তে ওপেনএন্ড কাঠামোয় রূপান্তর করা হলে বিনিয়োগকারীরা বেশি সুরক্ষা ও আর্থিক সুবিধা পাবেন। কারণ ওপেনএন্ডে রূপান্তরের পর বিনিয়োগকারীরা নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ভিত্তিক সুবিধা ভোগ করতে পারবেন, যা লিকুইডেশনের তুলনায় বেশি লাভজনক ও নিরাপদ। একই সঙ্গে এতে বাজারে নেতিবাচক চাপও কমবে।

বিএসইসি জানিয়েছে, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ৬২(২) ও ৬৩ অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ক্লোজএন্ড ফান্ডকে ওপেনএন্ডে রূপান্তরের সুযোগ থাকবে। বিশেষ করে কোনো ফান্ডের ছয় মাসের গড় বাজারদর যদি এনএভির তুলনায় ২৫ শতাংশ বা তার বেশি ডিসকাউন্টে অবস্থান করে, তাহলে ট্রাস্টিকে ইউনিটহোল্ডারদের মতামত নেওয়ার জন্য বিশেষ সাধারণ সভা (এসজিএম) আহ্বান করতে হবে।

গাইডলাইনে বলা হয়েছে, ছয় মাসের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ট্রাস্টিকে রেকর্ড ডেট ঘোষণা করতে হবে। ট্রাস্টি বোর্ডকে সভার অন্তত ১৪ কার্যদিবস আগে এবং সর্বোচ্চ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি বিষয়টি মূল্যসংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) হিসেবে জাতীয় দৈনিক, অনলাইন পোর্টাল, স্টক এক্সচেঞ্জ, ট্রাস্টি ও অ্যাসেট ম্যানেজারের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।

রেকর্ড ডেট ঘোষণার পর কমপক্ষে ২১ দিনের নোটিশ দিয়ে ইউনিটহোল্ডারদের মতামত নেওয়ার জন্য ইজিএম আয়োজন করতে হবে। সভায় তিন থেকে চারজন ইউনিটহোল্ডার রূপান্তরের বিপক্ষে ভোট দিলে ফান্ড লিকুইডেশনের পথে যাবে। অন্যদিকে, রূপান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন না পেলে ফান্ডের স্বাভাবিক লেনদেন পুনরায় চালু হবে।

নতুন নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, রেকর্ড ডেট থেকে ইউনিট লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে এবং কার্যকর তারিখের তিন দিনের মধ্যে ট্রাস্টি ফান্ডের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে। এরপর সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে পুরো রূপান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

এসজিএম আয়োজনের আগে কমিশনের কাছে তথ্য স্মারক জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। সেখানে সর্বশেষ পোর্টফোলিও, এনএভি, সম্ভাব্য রূপান্তর ব্যয়, আগের আর্থিক পারফরম্যান্স, ডিভিডেন্ড ইতিহাস এবং নতুন ফান্ড কাঠামোর বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি স্বাধীন অডিটরের মাধ্যমে অডিট ও ভ্যালুয়েশন রিপোর্টও প্রস্তুত করতে হবে।

বিএসইসি আরও জানিয়েছে, ওপেনএন্ড ফান্ডে রূপান্তরের পর ইউনিটগুলো ডিমেট আকারে থাকবে এবং ইউনিটহোল্ডাররা প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময় ইউনিট সারেন্ডার করে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। তবে রূপান্তর ব্যয় মোট ফান্ড সাইজের ১ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।

বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্লোজএন্ড ফান্ডগুলো গভীর ডিসকাউন্টে লেনদেন হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা প্রকৃত সম্পদ মূল্যের সুবিধা পাচ্ছিলেন না। নতুন গাইডলাইনের ফলে ওপেনএন্ডে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হওয়ায় ইউনিটহোল্ডাররা এনএভি ভিত্তিক সুবিধা পাবেন এবং যেকোনো সময় ইউনিট সারেন্ডার করে অর্থ তুলতে পারবেন। এতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ আরও বেশি সুরক্ষিত হবে।

তিনি আরও বলেন, লিকুইডেশনের ক্ষেত্রে ফান্ডের সম্পদ বিক্রি করতে হওয়ায় বাজারে সেল প্রেসার তৈরি হতে পারে। কিন্তু ওপেনএন্ডে রূপান্তরের ক্ষেত্রে আন্ডারলাইং অ্যাসেট বিক্রির প্রয়োজন হয় না। ফলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে এবং বিনিয়োগকারীরাও তুলনামূলকভাবে বেশি লাভবান হবেন।

মো. আবুল কালাম জানান, রেকর্ড ডেট ঘোষণার পর বাজারদর ধীরে ধীরে এনএভির কাছাকাছি চলে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে। কারণ বিনিয়োগকারীরা তখন বুঝতে পারবেন যে ওপেনএন্ড কাঠামোয় রূপান্তরের মাধ্যমে তারা প্রকৃত সম্পদ মূল্যের ভিত্তিতে সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, নতুন মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্লোজএন্ড ফান্ডকে ওপেনএন্ডে রূপান্তর বা অবসায়নের গাইডলাইন তৈরির জন্য বিএসইসি পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছিল। কমিশনের অতিরিক্ত পরিচালক শেখ মো. লুৎফুল কবির ছিলেন কমিটির আহ্বায়ক। এছাড়া যুগ্ম পরিচালক সুলতানা পারভীন, সহকারী পরিচালক মো. আতিকুল্লাহ খান এবং সহকারী পরিচালক মো. তৌহিদুল ইসলাম সাদ্দাম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সদস্য সচিব ছিলেন সহকারী পরিচালক মো. সাগর ইসলাম।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে