ঢাকা, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্ব অর্থনীতিতে হইচই—ইরানের জব্দ সম্পদ নিয়ে বড় দাবি!

২০২৬ এপ্রিল ১৯ ১১:১৮:০৬
বিশ্ব অর্থনীতিতে হইচই—ইরানের জব্দ সম্পদ নিয়ে বড় দাবি!

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বজুড়ে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন দেশে জব্দ হয়ে আছে ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ। ইসলামি বিপ্লবের পর ১৯৭৯ সাল থেকে শুরু করে ২০২৬ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ ইরানের সরকারি সম্পদ, তেলের রাজস্ব ও ব্যাংক রিজার্ভ আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ করে আসছে তেহরান।

বিশেষ করে ইরান দাবি করছে, এসব সম্পদের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর ব্যাংকিং সিস্টেমে আটকে আছে। এর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ, তেল বিক্রির অর্থ এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক সম্পদ।

ইরানের সরকারি ও বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, জব্দ থাকা সম্পদের মোট মূল্য নির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরিসংখ্যান সামনে এসেছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে ১৯৭৯ সালে প্রায় ৮–১১ বিলিয়ন ডলার জব্দ করা হয়, পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে এই অঙ্ক বেড়ে ৫০–৬০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছায় বলে দাবি করা হয়, কিছু আন্তর্জাতিক সূত্র অনুযায়ী, মোট ক্ষতি ও জব্দ সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে

ইরানের একজন মুখপাত্রের বরাতে বলা হয়েছে, যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখন প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত দাঁড়াতে পারে।

১৯৭৯ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার একটি নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ইরানের সরকারি সম্পদ জব্দ করেন। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে এসব সম্পদ আটকে রাখা হয়।

এই প্রক্রিয়ায় শুধু সরকারি অর্থই নয়, বরং বহু আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও কোম্পানি ইরানের সঙ্গে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়। ফলে তেল, জ্বালানি ও শিল্প খাতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে দেশটি।

১৯৮১ সালের আলজিয়ার্স চুক্তির মাধ্যমে কিছু অর্থ ফেরত পেলেও তা ছিল সীমিত। ইরান প্রায় ৩.৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত পায়, তবে বাকি অর্থ বিভিন্ন দাবি ও আইনি জটিলতায় আটকে থাকে।এর পর গঠিত হয় হেগের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ক্লেইমস ট্রাইব্যুনাল, যা এখনো দুই দেশের আর্থিক বিরোধ নিষ্পত্তি নিয়ে কাজ করছে।

২০১৫ সালে ইরান ও বিশ্বশক্তির মধ্যে পারমাণবিক চুক্তির মাধ্যমে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয় এবং প্রায় ৫০–৬০ বিলিয়ন ডলার ব্যবহারের সুযোগ পায় ইরান।

তবে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে চুক্তি থেকে সরে গেলে আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় এবং সম্পদগুলো পুনরায় জব্দ হয়ে যায়।

২০২৩ সালে কাতারের মধ্যস্থতায় বন্দি বিনিময়ের সময় দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকা ইরানের প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার কাতারের ব্যাংকে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া হয়।

তবে এই অর্থ শুধুমাত্র খাদ্য, ওষুধ ও মানবিক খাতে ব্যবহারের শর্ত ছিল। পরবর্তীতে রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এই অর্থ ব্যবহারের ওপরও সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, জব্দ থাকা সম্পদ ফেরত দেওয়া তাদের জন্য “অ-আলোচনাযোগ্য শর্ত”। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি বাস্তব পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে কোনো আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব নয়।

দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে ইরানের বিপুল পরিমাণ সম্পদ বিভিন্ন দেশে আটকে আছে। বিভিন্ন সময় আংশিক মুক্তি মিললেও রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে পুরো অর্থ এখনো ফেরত পায়নি তেহরান। ফলে এই ইস্যু এখনো আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক হিসেবে রয়ে গেছে।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে