ঢাকা, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

আইপিও জালিয়াতির অভিযোগে লাইসেন্স ঝুঁকিতে মার্চেন্ট ব্যাংক

২০২৬ এপ্রিল ১৮ ২৩:১৭:৫৩
আইপিও জালিয়াতির অভিযোগে লাইসেন্স ঝুঁকিতে মার্চেন্ট ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে আইপিও প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে শাহজালাল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি একমি পেস্টিসাইডস লিমিটেড-এর আইপিও প্রসপেক্টাসে মিথ্যা তথ্য প্রদান ও যথাযথ ডিউ ডিলিজেন্সে ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। এ কারণে সনদ বাতিলের মতো কঠোর সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছে মার্চেন্ট ব্যাংকটি। বাজারে স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার স্বার্থে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিশেষ তদন্ত চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদেরকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি কমিশনের মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে কিছু শর্তসাপেক্ষে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গঠিত কমিটিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ শামসুর রহমান। তার সঙ্গে সদস্য হিসেবে রয়েছেন উপপরিচালক মো. শাহনেওয়াজ এবং সহকারী পরিচালক মো. আতিকুল্লাহ খান। পুরো কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করবেন কমিশনের পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম।

বিএসইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিশ্চিত করতে এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের স্বার্থেই এই তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

সূত্র বলছে, শেয়ারবাজারের কোনো সদস্য প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের আগে তাদের আর্থিক অবস্থা, গ্রাহক দেনা-পাওনা এবং সম্পদের প্রকৃত চিত্র যাচাই করতে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে সুপারিশ দেওয়ার দায়িত্বও থাকবে এই কমিটির ওপর। বাজারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ফেরাতে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার আদেশ অনুযায়ী, সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্চেন্ট ব্যাংকার ও পোর্টফোলিও ম্যানেজার) বিধিমালা, ১৯৯৬-এর বিধি ৩৩(১) ও ৩৩(২) এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ধারা ১৭ক অনুযায়ী এই তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে।

আদেশ জারির তারিখ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনে জমা দিতে হবে বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

তদন্তে মূলত আইপিও প্রসপেক্টাসে মিথ্যা তথ্য প্রদান, ডিউ ডিলিজেন্সে অবহেলা এবং বিধিমালা লঙ্ঘনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে। প্রাথমিকভাবে এসব কর্মকাণ্ড ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্তি বিধিমালা-২০১৫-এর প্রবিধান ৪৫ এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স-১৯৬৯-এর ১৮ নম্বর ধারার লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এছাড়া, প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করা উচিত কি না সে বিষয়ে সুপারিশ দেবে তদন্ত কমিটি। পাশাপাশি গ্রাহকদের প্রাপ্য ও প্রদেয় অর্থের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে তা কমিশনে উপস্থাপন করবে তারা।

প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ সম্পদ ও দায়ের অবস্থাও যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে সিকিউরিটিজ সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো আইন বা বিধিমালা লঙ্ঘন হয়েছে কি না, সে বিষয়েও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হবে প্রতিবেদনে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের কঠোর নজরদারি আইপিও প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়ক হবে। এতে ইস্যু ম্যানেজারদের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর কমিশনের ৯৭৩তম সভায় শাহজালাল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি একমি পেস্টিসাইডস লিমিটেডের আইপিওতে ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিল।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে