ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক প্রতিবেদনে একাধিক অসঙ্গতি

২০২৬ এপ্রিল ১৬ ১২:৩৯:৪১
অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক প্রতিবেদনে একাধিক অসঙ্গতি

নিজস্ব প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারেতালিকাভুক্ত অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি তুলে ধরেছে নিরীক্ষক। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সমাপ্ত বছরের অডিট রিপোর্টে ‘কোয়ালিফাইড অপিনিয়ন’-এর ভিত্তি এবং ‘এমফ্যাসিস অব ম্যাটার’ অনুচ্ছেদে এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৩৬ কোটি ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৮০ টাকা হলেও, নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ক্ষেত্রে স্পন্সর ও পরিচালকদের যৌথভাবে ন্যূনতম ৬০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রে তা মাত্র ২৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ, যা নিয়মের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একইসঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ’র নির্দেশনা অনুযায়ী ন্যূনতম ৪০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন থাকার কথা থাকলেও কোম্পানির মূলধন এখনও সেই সীমার নিচে রয়েছে।

এছাড়া কোম্পানির সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুতর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। নিরীক্ষক জানিয়েছেন, সম্পত্তি, প্ল্যান্ট ও যন্ত্রপাতির (পিপিই) জন্য কোনো পূর্ণাঙ্গ ফিক্সড অ্যাসেট রেজিস্টার সংরক্ষণ করা হয়নি এবং সম্পদগুলোকে সঠিকভাবে শনাক্তের জন্য ইউনিক কোডও দেওয়া হয়নি। যা আন্তর্জাতিক হিসাবমান (IAS-16) অনুসরণের ক্ষেত্রে ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। যদিও ব্যবস্থাপনা একটি তালিকা সরবরাহ করেছে এবং প্রধান কার্যালয়ে সম্পদের অস্তিত্ব আংশিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়েছে।

অন্যদিকে ‘এমফ্যাসিস অব ম্যাটার’ অংশে নিরীক্ষক উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জন্য ঘোষিত স্টক ডিভিডেন্ডের মাধ্যমে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন প্রায় ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বাড়িয়ে ৩৬ কোটি টাকার বেশি করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ (RJSC)-এ জমা দেওয়া হলেও এখনো শিডিউল-১০ ও ফর্ম-১২ এর অনুমোদন পাওয়া যায়নি। তবে এই বিষয়ে নিরীক্ষা মতামতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

এছাড়া সহযোগী প্রতিষ্ঠান অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স সিকিউরিটিজ লিমিটেডের আর্থিক বিবরণীতেও একটি সংশোধনের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। ২০২১ সালে ১ কোটি টাকার একটি ব্যয় ভুলভাবে রাজস্ব ব্যয় হিসেবে দেখানো হয়েছিল, যা পরে মূলধনী ব্যয় হিসেবে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক হিসাবমান (IAS-8) অনুসরণ করে এই সংশোধন করা হয়েছে এবং এর ফলে পূর্ববর্তী আর্থিক তথ্য, নিট সম্পদ মূল্য (NAV), শেয়ারপ্রতি আয় (EPS)সহ বিভিন্ন সূচকে সমন্বয় আনা হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে নিরীক্ষকের এই পর্যবেক্ষণগুলো কোম্পানির আর্থিক কাঠামো, নিয়ন্ত্রক অনুবর্তিতা এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় উন্নতির প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে