ঢাকা, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
Sharenews24

মার্জিন রুলসের সময় বাড়াতে বিস্তারিত তথ্য তলব

২০২৬ এপ্রিল ১৩ ২২:৪৫:৩৫
মার্জিন রুলসের সময় বাড়াতে বিস্তারিত তথ্য তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে ‘মার্জিন রুলস-২০২৫’ কার্যকর করা নিয়ে নতুন করে প্রশাসনিক ও আইনি তৎপরতা শুরু হয়েছে। নতুন এই বিধিমালা বাস্তবায়নের সময়সীমা বৃদ্ধির জন্য ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) আবেদন জানালে, তার প্রেক্ষিতে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর বর্তমান অবস্থা ও সক্ষমতা যাচাইয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

রোববার (১২ এপ্রিল) বিএসইসির পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি ডিবিএ সভাপতির কাছে পাঠানো হয়েছে। সংস্থাটির উপপরিচালক মো. রফিকুন্নবী স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে মূলত নতুন মার্জিন রুলস বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ব্রোকারদের বর্তমান অগ্রগতি কতটুকু এবং নির্ধারিত শর্তগুলো পরিপালনে তারা কতটা প্রস্তুত, সে বিষয়ে তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ৭ এপ্রিল ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে, নতুন ‘মার্জিন রুলস-২০২৫’ যথাযথভাবে কার্যকর করার জন্য নির্ধারিত সময়সীমার বাইরে আরও অতিরিক্ত তিন মাস সময়ের প্রয়োজন। ব্রোকারদের পক্ষ থেকে আসা এই আবেদনের যৌক্তিকতা যাচাই করতেই এখন নড়েচড়ে বসেছে বিএসইসি।

বিএসইসির পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, সময় বাড়ানোর আবেদনটি কমিশন গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করেছে। তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্রোকারদের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতির একটি চিত্র প্রয়োজন। কমিশন জানতে চেয়েছে—কতটি ব্রোকারেজ হাউজ ইতোমধ্যে কনজারভেটিভ পলিসি গ্রহণ করেছে, কতজন রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন করেছে এবং কতজন ব্রোকার আরবিসিএ রুলস পুরোপুরি মেনে চলছে। এছাড়া আনরিয়েলাইজড লস বা নেগেটিভ ইক্যুইটির সমস্যা নেই এমন ব্রোকারের সংখ্যাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

ডিবিএ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত বছরের ১ নভেম্বর এই মার্জিন রুলসটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের ছয় মাস পর অর্থাৎ আগামী ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এই নতুন বিধিমালায় বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বাজারের ঝুঁকি কমানোর জন্য বেশ কিছু আধুনিক ও কঠোর শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।

ডিবিএ নেতৃবৃন্দের দাবি, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এবং প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির কারণে নির্ধারিত ছয় মাস সময় এই নতুন বিধিমালা বাস্তবায়নের জন্য মোটেও যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং নতুন সফটওয়্যার বা সিস্টেম আপগ্রেডেশনের জন্য আরও সময় প্রয়োজন। এই বাস্তবতার নিরিখেই তারা আগামী ৩০ এপ্রিলের পর আরও তিন মাস বাড়তি সময় চেয়েছেন।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিএসইসি এই তথ্যগুলো যাচাইয়ের মাধ্যমে বুঝতে চায় যে কতজন ব্রোকার আসলেই বাস্তবায়নের পথে রয়েছেন আর কতজন সময়ক্ষেপণ করছেন। তথ্যের সঠিকতা ও ব্রোকারদের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করেই কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে যে সময় বাড়ানো হবে কি না।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে