ঢাকা, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
Sharenews24

কুরআনে বর্ণিত ২৫ জন নবীর সংক্ষিপ্ত জীবনী

২০২৬ এপ্রিল ১১ ১৮:১৬:১৫
কুরআনে বর্ণিত ২৫ জন নবীর সংক্ষিপ্ত জীবনী

নিজস্ব প্রতিবেদক:২৫ জন নবীর সংক্ষিপ্ত জীবনী ইসলামি ইতিহাস ও মানবতার পথনির্দেশনার এক অনন্য ভাণ্ডার। মহান আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে বিভিন্ন জাতির জন্য নবীদের পাঠিয়েছেন, যাতে মানুষ সত্য, ন্যায় ও সৎ পথে চলতে পারে। এই নবীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও শিক্ষাগুলো অত্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যাতে ছোট-বড় সবাই সহজে বুঝতে ও মনে রাখতে পারে। সহজে পড়ার জন্য প্রতিটি কাহিনীকে একটি মূল বাক্যে বা ঘটনায় সীমাবদ্ধ করা হয়েছে:

​১. হযরত আদম (আ.)

​তিনি পৃথিবীর প্রথম মানুষ এবং প্রথম নবী। আল্লাহ তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। জান্নাত থেকে পৃথিবীতে আসার পর তার মাধ্যমেই মানবজাতির বিস্তার ঘটে।

​২. হযরত ইদ্রিস (আ.)

​তিনি অত্যন্ত জ্ঞানী ছিলেন। প্রচলিত আছে যে, তিনি সর্বপ্রথম কলম দিয়ে লেখা এবং কাপড় সেলাই করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিলেন।

​৩. হযরত নূহ (আ.)

​তিনি ৯৫০ বছর মানুষকে আল্লাহর পথে ডেকেছিলেন। অবাধ্যদের জন্য যখন মহাপ্লাবন আসে, তখন তিনি আল্লাহর নির্দেশে বিশাল এক নৌকা তৈরি করে মুমিনদের রক্ষা করেন।

​৪. হযরত হুদ (আ.)

​তাকে ‘আদ’ জাতির কাছে পাঠানো হয়েছিল। তারা অত্যন্ত শক্তিশালী ও দাম্ভিক ছিল। আল্লাহর নাফরমানি করায় এক প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড়ে তারা ধ্বংস হয়ে যায়।

​৫. হযরত সালেহ (আ.)

​তাকে পাঠানো হয়েছিল ‘সামুদ’ জাতির কাছে। তার মুজিজা (অলৌকিক ক্ষমতা) ছিল পাহাড়ের ভেতর থেকে বের হওয়া একটি উটনী। অবাধ্য জাতি সেই উটনীকে হত্যা করায় তারা ধ্বংস হয়।

​৬. হযরত ইব্রাহিম (আ.)

​তাকে বলা হয় 'খলিলুল্লাহ' বা আল্লাহর বন্ধু। নমরুদের আগুনের কুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েও তিনি অলৌকিকভাবে অক্ষত ছিলেন। তিনি ও তার পুত্র ইসমাইল (আ.) মিলে কাবা ঘর পুনর্নির্মাণ করেন।

​৭. হযরত লুত (আ.)

​তিনি হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ভাতিজা ছিলেন। তাকে 'সাদুম' নগরীতে পাঠানো হয়েছিল। সেই জাতি চরম অশ্লীলতায় লিপ্ত থাকায় আল্লাহ তাদের জনপদকে উল্টে দিয়ে ধ্বংস করেছিলেন।

​৮. হযরত ইসমাইল (আ.)

​তিনি ইব্রাহিম (আ.)-এর বড় ছেলে। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তিনি কোরবানি হতে রাজি হয়েছিলেন। তার পায়ের ঘর্ষণে পবিত্র যমযম কূপের সৃষ্টি হয়।

​৯. হযরত ইসহাক (আ.)

​তিনি ইব্রাহিম (আ.)-এর দ্বিতীয় পুত্র। তার বংশ থেকেই বনী ইসরাইল জাতির অনেক নবী এসেছিলেন।

​১০. হযরত ইয়াকুব (আ.)

​তিনি ইসহাক (আ.)-এর পুত্র। তার আরেক নাম ছিল 'ইসরাইল'। তিনি হযরত ইউসুফ (আ.)-এর পিতা ছিলেন।

​১১. হযরত ইউসুফ (আ.)

​তিনি অত্যন্ত সুশ্রী বা সুন্দর ছিলেন। ভাইয়েরা তাকে কূপে ফেলে দিলেও তিনি সেখান থেকে বেঁচে ফিরে আসেন এবং পরবর্তীতে মিশরের রাজত্ব লাভ করেন।

​১২. হযরত আইয়ুব (আ.)

​তিনি ধৈর্যের মূর্ত প্রতীক। কঠিন চর্মরোগ এবং সন্তান-সম্পদ হারিয়েও তিনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতেন। দীর্ঘ ১৮ বছর পর আল্লাহ তাকে সুস্থতা ফিরিয়ে দেন।

​১৩. হযরত শোয়াইব (আ.)

​তাকে মাদইয়ানবাসীর কাছে পাঠানো হয়েছিল। তারা ব্যবসায় ওজনে কম দিত। সৎপথে না আসায় তারা আল্লাহর আজাবে ধ্বংস হয়।

​১৪. হযরত মুসা (আ.)

​তিনি আল্লাহর সাথে সরাসরি কথা বলতেন। তিনি জালিম শাসক ফেরাউনকে পরাজিত করেন এবং তার ওপর 'তাওরাত' কিতাব নাজিল হয়।

​১৫. হযরত হারুন (আ.)

​তিনি মুসা (আ.)-এর বড় ভাই এবং তার সহযোগী নবী ছিলেন। তিনি অত্যন্ত সুবক্তা ছিলেন।

​১৬. হযরত যুল-কিফল (আ.)

​তিনি অত্যন্ত ধৈর্যশীল এবং ইবাদতগুজার ছিলেন। তিনি তার জাতির মানুষদের দেখভাল করার কঠিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

​১৭. হযরত দাউদ (আ.)

​আল্লাহ তাকে অত্যন্ত সুমধুর কণ্ঠ দিয়েছিলেন। তিনি পাহাড় ও পশুপাখির সাথে আল্লাহর যিকির করতেন। তার ওপর 'যবুর' কিতাব নাজিল হয়।

​১৮. হযরত সুলাইমান (আ.)

​তিনি দাউদ (আ.)-এর পুত্র ছিলেন। আল্লাহ তাকে পুরো পৃথিবীর শাসনক্ষমতা এবং পশুপাখি ও জিনের ওপর নিয়ন্ত্রণ দিয়েছিলেন।

​১৯. হযরত ইলিয়াস (আ.)

​তিনি বনী ইসরাইলকে মূর্তিপূজা ত্যাগ করে এক আল্লাহর পথে ডাকতেন।

​২০. হযরত আল-ইয়াসা (আ.)

​তিনি হযরত ইলিয়াস (আ.)-এর উত্তরসূরি হিসেবে বনী ইসরাইলের হিদায়াতের কাজ চালিয়ে যান।

​২১. হযরত ইউনুস (আ.)

​তিনি আল্লাহর অনুমতি ছাড়া দেশ ত্যাগ করায় সমুদ্রের এক বিশাল মাছের পেটে বন্দি হন। সেখানে তওবা করার পর আল্লাহ তাকে মুক্তি দেন।

​২২. হযরত জাকারিয়া (আ.)

​তিনি অত্যন্ত বৃদ্ধ বয়সে আল্লাহর কাছে দোয়া করে পুত্র সন্তান (ইয়াহইয়া আ.) লাভ করেছিলেন। তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন।

​২৩. হযরত ইয়াহইয়া (আ.)

​তিনি জাকারিয়া (আ.)-এর পুত্র ছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরহেজগার এবং শৈশব থেকেই মহৎ গুণের অধিকারী।

​২৪. হযরত ঈসা (আ.)

​তিনি আল্লাহর কুদরতে পিতা ছাড়াই জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জন্মানোর পরেই কথা বলতে পারতেন এবং আল্লাহর হুকুমে মৃত মানুষকে জীবিত করতে পারতেন। তার ওপর ‘ইঞ্জিল’ নাজিল হয়।

​২৫. হযরত মুহাম্মদ (সা.)

​তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী। সারা বিশ্বের মানুষের জন্য তিনি রহমত। তার ওপর সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব আল-কুরআন নাজিল হয়েছে।

​নোট: এই ২৫ জন নবীর নাম পবিত্র কুরআনে সরাসরি উল্লেখ আছে। মানবজাতির পথপ্রদর্শক হিসেবে তারা প্রত্যেকেই ছিলেন সত্যের আলো।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর



রে