ঢাকা, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
Sharenews24

সরকারি দলের ওপর সংসদে ক্ষোভ ঝাড়লেন নাহিদ ইসলাম

২০২৬ এপ্রিল ১০ ১৯:৪৯:৩৬
সরকারি দলের ওপর সংসদে ক্ষোভ ঝাড়লেন নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদে 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল ২০২৬' নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিলটিকে 'জনস্বার্থ বিরোধী' এবং 'দলীয়করণের অপচেষ্টা' হিসেবে অভিহিত করে এর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিলটির বিষয়ে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেছেন:

১. দলীয়করণের অভিযোগ: বিরোধী দলের দাবি, বর্তমান সরকার বাংলাদেশের সকল প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করার যে প্রবণতা শুরু করেছে, এই বিলটি তারই একটি অংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং ক্রিকেট বোর্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে দলীয় ও পারিবারিক নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

২. পরিচালনা পর্ষদের গঠন নিয়ে প্রশ্ন: বিলে প্রস্তাব করা হয়েছে যে, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী এই জাদুঘরের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হবেন। বিরোধীদের দাবি, আগে কথা ছিল সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত একজন বিশেষজ্ঞ এই পর্ষদের প্রধান হবেন। তারা মনে করেন, এটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বতন্ত্র ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হওয়া উচিত ছিল, যেখানে সাহিত্য, ইতিহাস ও জাদুঘর বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের প্রাধান্য থাকবে।

৩. রাজনৈতিক সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ: চিফ হুইপ জানান যে, ৯৮টি অধ্যাদেশ নিয়ে একটি বিশেষ কমিটিতে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে ঐক্যমত্য হয়েছিল। কিন্তু বিলটি উত্থাপনের মাত্র আধা ঘণ্টা আগে সংশোধনী আনার মাধ্যমে সেই সমঝোতা ও 'কনসেনসাস' ( Consensus) ভঙ্গ করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তারা একে 'দিনের দুপুরে ছলচাতুরি' এবং 'জচ্চুরি' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

৪. স্মৃতি সংরক্ষণে একপাক্ষিকতা: বিরোধীদের মতে, এই জাদুঘরে কেবল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি নয়, বরং গত ১৬ বছরের দীর্ঘ আন্দোলনের ইতিহাসও থাকা উচিত ছিল।

সংসদে কথা বলার পর্যাপ্ত সুযোগ না দেওয়া এবং একতরফাভাবে বিলটি পাশের চেষ্টার প্রতিবাদে বিরোধী দল কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন বিলটি থেকে বিতর্কিত সংশোধনীগুলো বাদ দিয়ে পূর্বের ঐক্যমত্য অনুযায়ী আইনটি পাস করা হয়। অন্যথায়, সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ার এবং বিলটি বর্জনের প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।

এই বিতর্কের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের মতো একটি জাতীয় ইস্যুতে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে