ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
Sharenews24

আয় কমেলেও নগদ প্রবাহে উল্লম্ফন, শিগগিরই আসছে সুখবর

২০২৬ এপ্রিল ০২ ১২:৫১:৩০
আয় কমেলেও নগদ প্রবাহে উল্লম্ফন, শিগগিরই আসছে সুখবর

নিজস্ব প্রতিবেদক: তিন প্রান্তিকে ধারাবাহিকভাবে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) কমলেও নগদ অর্থ প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির (SHAHJABANK)। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে ব্যাংকটির প্রকাশিত ২০২৫ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অন‍ুযায়ী এ তথ্য জানা গেছে।

৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত ব্যাংকটির আর্থিক বছর শেষ হওয়ায় ব্যাংকটি ডিভিডেন্ড করতে যাচ্ছে। এজন্য কোম্পানিটি আগামী ৩ এপ্রিল বিকাল ৩টায় বোর্ডসভা আহবান করেছে। সভায় ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত সমাপ্ত অর্থবছরের নিরিক্ষীত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ডিভিডেন্ড ঘোষণা করবে। আগের অর্থবছরে অর্থাৎ ২০২৪ সালে ব্যাংকটি ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছেল।

বর্তমানে ব্যাংকটির রির্জাভের পরিমাণ ১ হাজার ২৩৪ কোটি ৯ লাখ টাকা। আর পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ১১২ কোটি ৯৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এছাড়া, পিই রেশিও ৩.৭৯ পয়েন্ট, যা বিনিয়োগ অনুকুলে।

এদিকে, নিচে ৩টি প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন তুলে ধরা হলো-

প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি–মার্চ)

২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি–মার্চ) ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ০৪ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ০৯ পয়সা।

একই সময়ে সমন্বিত পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ৩৬ পয়সা, যা ২০২৪ সালের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৪৩ পয়সা।

৩১ মার্চ ২০২৫ তারিখে ব্যাংকটির সমন্বিত নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ০২ পয়সা, যা এক বছর আগে ছিল ২২ টাকা ৩৬ পয়সা।

ব্যাংকটির মতে, বিনিয়োগ আয় বৃদ্ধি, গ্রাহক বিনিয়োগ বৃদ্ধির তুলনামূলক ধীর গতি এবং অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্লেসমেন্ট কমে যাওয়ার কারণে এনওসিএফপিএস বেড়েছে।

দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল–জুন)

২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল–জুন) ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৪৩ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৫০ পয়সা।

প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি–জুন) মোট ইপিএস দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৪৭ পয়সা, যা ২০২৪ সালের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ৫৯ পয়সা।

এ সময় এনওসিএফপিএস বেড়ে ১৫ টাকা ৩৯ পয়সায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১২ টাকা ৪৮ পয়সা।

৩০ জুন ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির এনএভি দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ৩৩ পয়সা, যা এক বছর আগে ছিল ২২ টাকা ৩৬ পয়সা।

এনওসিএফপিএস বৃদ্ধির পেছনে বিনিয়োগ আয় বৃদ্ধি এবং অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্লেসমেন্ট কমে যাওয়াকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে ব্যাংকটি।

তৃতীয় প্রান্তিক (জুলাই–সেপ্টেম্বর)

২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ০২ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ০৬ পয়সা।

জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে মোট ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৫০ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ টাকা ৬৫ পয়সা।

এ সময় এনওসিএফপিএস উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ২২ টাকা ৯৭ পয়সায় উন্নীত হয়েছে, যা ২০২৪ সালের একই সময়ে ছিল ৭ টাকা ৮৪ পয়সা।

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির এনএভি দাঁড়িয়েছে ২৩ টাকা ৩৯ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ২৩ টাকা ৩০ পয়সা।

ব্যাংকটির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বিনিয়োগ আয় বৃদ্ধি, ফি ও কমিশন থেকে আয় বাড়া এবং অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্লেসমেন্ট বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এনওসিএফপিএসে এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

সামগ্রিক চিত্র

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে ব্যাংকটির মুনাফায় কিছুটা চাপ থাকলেও নগদ প্রবাহে ধারাবাহিক উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে বিনিয়োগ আয় ও কমিশনভিত্তিক আয়ের প্রবৃদ্ধি ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে ব্যাংকটির শেয়ার দর সম্পদমুল্যের তুলনায় কম এবং পিই রেশিও বিনিয়োগ অনুকুলে রয়েছে। এছাড়া, পরিশোধিত মূলধনের তুলনায় রিজার্ভ বেশি রয়েছে। প্রথম তিন প্রান্তিকে আয় কমলেও শেষ প্রান্তিকে বা ৩ মাসে যদি বৃদ্ধি পেয়ে থাকে তবে ‍আগের বছরের তুলনায় ডিভিডেন্ডের পরিমাণ বাড়তে পারে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে