ঢাকা, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

যে কারণে ডিভিডেন্ড কমেছে বিএটিবিসির

২০২৬ মার্চ ২৮ ১৫:০৩:২৭
যে কারণে ডিভিডেন্ড কমেছে বিএটিবিসির

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শীর্ষ করদাতা প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবিসি) ২০২৫ অর্থবছরে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে তীব্র সংকোচনের মুখে পড়েছে। কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বিক্রির পরিমাণ কমে যাওয়া, মূল্যস্ফীতিজনিত চাপ, কারখানা বন্ধের এককালীন খরচ এবং উচ্চতর আবগারি করের কারণে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) আগের বছরের তুলনায় ৬৭ শতাংশ কমেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গত বছরের (২০২৪) ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ৩২ টাকা ৪২ পয়সা আয় করেছিল। তবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে তা দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০ টাকা ৮১ পয়সায়। আয় কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে ডিভিডেন্ডে। ২০২৪ সালের জন্য কোম্পানিটি চমকপ্রদ ৩০০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করলেও, ২০২৫ সালের জন্য তা কমে ৩০ শতাংশ ক ডিভিডেন্ডে সীমাবদ্ধ হয়েছে।

প্রান্তিকভিত্তিক আয়ের চিত্র (জানুয়ারি-ডিসেম্বর ২০২৫)কোম্পানির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ইপিএস ছিল ৫ টাকা ৮৯ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৭ টাকা ৬৫ পয়সা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ব্যবধান আরও বেড়ে যায়। ২০২৪ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে যেখানে ইপিএস ছিল ৯ টাকা ৪৮ পয়সা, সেখানে ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা ১ টাকা ৮০ পয়সা নেমে আসে।

তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ইপিএস দাঁড়ায় ৫ টাকা ৬৫ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ের ৭ টাকা ৩৫ পয়সার তুলনায় কম। প্রথম তিন প্রান্তিক (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) মিলিয়ে ইপিএস আগের বছরের ২৪ টাকা ৪৯ পয়সা থেকে কমে দাঁড়ায় ১৩ টাকা ৩৪ পয়সায়। পুরো বছর শেষে (২০২৫) এই আয় দাঁড়ায় ১০ টাকা ৮১ পয়সায়।

আয় কমার কারণ কী?কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পক্ষ থেকে প্রতিটি প্রান্তিকের প্রতিবেদনে আয় কমার বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করা হয়েছে:

১. বিক্রির পরিমাণ কমে যাওয়া: ২০২৫ সালের শুরুর দিক থেকেই কোম্পানিটির পণ্যের বিক্রির পরিমাণ কমতে থাকে, যা মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।২. মূল্যস্ফীতির প্রভাব: উৎপাদন খরচের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতিজনিত সমন্বয়ের কারণে খরচ বেড়ে যায়।৩. ঢাকা কারখানা বন্ধের প্রভাব: ২০২৫ সালের জুলাই মাসে কোম্পানিটি তাদের ঢাকা কারখানার কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয় এবং যন্ত্রপাতি সাভার কারখানায় স্থানান্তর করে। এই জোরপূর্বক কারখানা বন্ধ, স্থানান্তর এবং পুনর্গঠনজনিত কারণে কোম্পানির পরিচালন মুনাফায় এককালীন ৭১৫ কোটি টাকার প্রভাব পড়ে।৪. উচ্চতর আবগারি কর পরিশোধ: এ সময়ে আবগারি করের হার বৃদ্ধি এবং সেই সংক্রান্ত উচ্চতর পরিশোধের কারণেও নগদ প্রবাহ এবং মুনাফা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ ও সম্পদের অবস্থাশেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহের (নো-সিএফপিএস) চিত্রটিও বেশ ওঠানামা করেছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে যা ধনাত্মক ২৬ টাকা ১৭ পয়সা ছিল, তা ২০২৫ সালের একই সময়ে ঋণাত্মক ২১ টাকা ৭০ পয়সায় নেমে আসে। তবে পুরো বছর শেষে (২০২৫) তা ৬ টাকা ১২ পয়সা ধনাত্মক অবস্থানে ফিরে আসে। কোম্পানি জানিয়েছে, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং কম পরিশোধের কারণে নগদ প্রবাহ কিছুটা ভালো ছিল, তবে উচ্চতর আবগারি কর পরিশোধ এবং কম মুনাফার কারণে সার্বিক নগদ প্রবাহ আগের বছরের (৩২ টাকা ৭ পয়সা) তুলনায় ৮১ শতাংশ কমেছে।

শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (নেট অ্যাসেট ভ্যালু) ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর ছিল ১০৬ টাকা ৮৮ পয়সা। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর তা কমে দাঁড়ায় ১০২ টাকা ৫০ পয়সায়।

ডিভিডেন্ড ও এজিএমআয় ও নগদ প্রবাহের এই পতনের প্রেক্ষাপটে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ৩০ শতাংশ চূড়ান্ত ক্যাশ ডিভিডেন্ড সুপারিশ করেছে। আগামী ৩০ এপ্রিল ২০২৬ সকাল সাড়ে ১০টায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। ডিভিডেন্ডের জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল।

প্রতিবেদনটি প্রস্তুতকালে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে কার্যক্রম আরও দক্ষ করে তোলা এবং সাভার কারখানায় উৎপাদন স্থানান্তরের মাধ্যমে খরচ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

এসএ খান

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে