ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

শেয়ারবাজারে আলোচনায় উচ্চ ডিভিডেন্ডের ১৩ কোম্পানি

২০২৬ মার্চ ২৭ ১১:৪৫:৪৮
শেয়ারবাজারে আলোচনায় উচ্চ ডিভিডেন্ডের ১৩ কোম্পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে ব্যতিক্রমী পারফরম্যান্স দেখিয়ে উচ্চ ডিভিডেন্ড দেওয়া ১৩টি কোম্পানি এখন বিনিয়োগকারীদের বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি যেখানে ছিল হতাশাজনক, সেখানে এসব প্রতিষ্ঠান ৫০ শতাংশের বেশি ডিভিডেন্ড দিয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান তুলে ধরেছে।

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) ও বিমা খাত বাদে মোট ২২৮টি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫৮টি কোম্পানি তাদের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে।

উচ্চ ডিভিডেন্ড প্রদানকারী কোম্পানিগুলোর তালিকায় রয়েছে— মেঘনা পেট্রোলিয়াম (২০০%), যমুনা অয়েল (১৮০%), ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ (১৭৫%), পদ্মা অয়েল (১৬০%), স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস (১২০%), ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস ব্লেন্ডার্স (৮০%), ইউনাইটেড পাওয়ার (৬৫%), ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল (৬৪%), রেনাটা (৫৫%), মবিল যমুনা (৫২%), কোহিনূর কেমিক্যাল (৫০%), বিএসআরএম (৫০%) এবং বিএসআরএম স্টিলস (৫০%)।

বাজার সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর নিজস্ব আর্থিক পারফরম্যান্সই শেয়ারবাজারের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করে। তবে দুর্বল বিক্রি, কম মুনাফা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে ডিভিডেন্ড ঘোষণায়।

প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৮০টি কোম্পানি ৫ শতাংশের নিচে ডিভিডেন্ড দিয়েছে এবং ৪৭টি প্রতিষ্ঠান কোনো ডিভিডেন্ডই ঘোষণা করেনি। অপরদিকে, ৪৯টি কোম্পানি ১০ শতাংশের বেশি এবং ২৪টি ঠিক ১০ শতাংশ ডিভিডেন্ড প্রদান করেছে।

ডিভিডেন্ড প্রবণতার দিক থেকে ৪১টি কোম্পানি আগের বছরের তুলনায় বেশি ডিভিডেন্ড দিয়েছে, ৫৫টি কমিয়েছে এবং ৬২টি প্রতিষ্ঠান তাদের ডিভিডেন্ড অপরিবর্তিত রেখেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ডিভিডেন্ড একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা ও শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি দায়বদ্ধতার অন্যতম সূচক। একটি কোম্পানি কতটা কার্যকরভাবে নগদ প্রবাহ তৈরি করতে পারে এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মুনাফা ভাগ করে নেয়—তা এই সূচকের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়।

তাদের মতে, সব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রতি বছর উচ্চ ডিভিডেন্ড প্রত্যাশা করা যুক্তিযুক্ত নয়। অনেক ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো মুনাফা পুনঃবিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে বেশি লাভবান হতে পারে, তাই ডিভিডেন্ড কম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে লাভ করেও ডিভিডেন্ড না দেওয়া বিনিয়োগকারীদের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের দাবি, উচ্চ সুদহার ও মূল্যস্ফীতির কারণে গত অর্থবছরে কোম্পানিগুলো বাড়তি চাপের মুখে পড়ে। এতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বিক্রি হ্রাস পায় এবং ঋণের সুদের বোঝা বাড়ায় মুনাফাও কমে যায়, যা ডিভিডেন্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অন্যদিকে বিশ্লেষকরা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে অনেক কোম্পানি দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভাব, প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া এবং উদ্যোক্তাদের আগ্রহ কমে যাওয়ার কারণে তাদের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারে না। তালিকাভুক্তির পর উদ্যোক্তাদের শেয়ার বিক্রি করে বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতাও অনেক ক্ষেত্রে কোম্পানির মৌলভিত্তি দুর্বল করে দেয়।

এসউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে