ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

শেয়ারবাজার অনিয়মে বিএসইসি কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্তে কমিটি

২০২৬ মার্চ ২৭ ১১:৪০:৫৮
শেয়ারবাজার অনিয়মে বিএসইসি কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্তে কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে আলোচিত কোয়েস্ট বিডিসি পিএলসিকে ঘিরে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ অনিয়মের ঘটনায় নতুন করে তদন্তে নেমেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ওটিসি মার্কেটে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানিতে বিধিমালা লঙ্ঘন করে বিনিয়োগের পেছনে কারা জড়িত—তা খুঁজে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড কোয়েস্ট বিডিসিতে ৬৮ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছে, যা মিউচুয়াল ফান্ডের প্রচলিত নিয়মের পরিপন্থী। এ বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর কর্মকর্তাদের কোনো ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ প্রেক্ষিতে বিএসইসির প্রশাসন বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে চিফ অ্যাকাউন্ট্যান্ট কামরুল আনাম খান, অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া এবং উপপরিচালক মো. রফিকুন্নবীকে সদস্য করা হয়েছে।

এর আগে একই ঘটনায় এলআর গ্লোবালের ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগের জন্য ৬ ব্যক্তি ও ১ প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯ কোটি ১১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে কমিশন। পাশাপাশি সম্ভাব্য মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর অনুসন্ধান কমিটির জমা দেওয়া প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী কোয়েস্ট বিডিসির অনুমোদনের সঙ্গে জড়িত তৎকালীন এসআরএমআইসি ও সিআই বিভাগের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা যাচাই করা হবে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মূল বোর্ড থেকে তালিকাচ্যুত পদ্মা প্রিন্টার্স অ্যান্ড কালার লিমিটেড পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে কোয়েস্ট বিডিসি হয়। এরপর লোকসানি ও বন্ধপ্রায় এই কোম্পানিতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হয়, যেখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কিছু কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

ওটিসি মার্কেটে থাকা এ প্রতিষ্ঠানে এলআর গ্লোবালের ছয়টি ফান্ড থেকে প্রায় ৬৮ কোটি টাকা নিয়ম ভেঙে বিনিয়োগ করা হয়। এ ঘটনায় বিএসইসির ৯৭৮তম সভায় সংশ্লিষ্টদের জরিমানা করা হয় এবং সুদসহ প্রায় ৯০ কোটি টাকা ফেরত আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

একই ঘটনায় বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা রিয়াজ ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষক ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি কোয়েস্ট বিডিসি থেকে ২৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা খায়রো কেয়ারে হস্তান্তরের ঘটনাকে মানি লন্ডারিং সন্দেহে দুদকে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া জানা যায়, এলআর গ্লোবাল পদ্মা প্রিন্টার্সের ৫১ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করে কোম্পানিটির নাম পরিবর্তন করে। প্রথম ধাপে প্রায় ২৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হলেও এ ক্ষেত্রে ট্রাস্টি বা কমিশনের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এমনকি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার ১৫ টাকা ৮৮ পয়সা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৮৯ টাকা ৪৮ পয়সায় কেনা হয়েছে, যা অস্বাভাবিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে