ঢাকা, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

ড্রোনেই বদলে যাচ্ছে যুদ্ধ—মাঠে ট্রাম্প পরিবারের নতুন উদ্যোগ

২০২৬ মার্চ ১৫ ১০:০১:২৮
ড্রোনেই বদলে যাচ্ছে যুদ্ধ—মাঠে ট্রাম্প পরিবারের নতুন উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : একুশ শতকের যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত বদলে যাচ্ছে কৌশল। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা দেখিয়ে দিচ্ছে—ব্যয়বহুল অস্ত্রের চেয়ে এখন অনেক সময় বেশি কার্যকর হয়ে উঠছে স্বল্পমূল্যের ড্রোন।

বিশেষ করে কম দামের ‘কামিকাজে ড্রোন’ ব্যবহারে দীর্ঘদিন ধরেই এগিয়ে রয়েছে ইরান। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ড্রোন হলো হেসা শাহেদ-১৩৬ ড্রোন। এই ড্রোন তৈরিতে খরচ পড়ে আনুমানিক ২০ থেকে ৫০ হাজার ডলার। কিন্তু এটিকে ধ্বংস করতে অনেক সময় ব্যবহার করতে হয় প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম—যার প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রের দাম প্রায় ৪০ লাখ ডলার। এই ব্যয়ের বৈষম্যই ইরানের তথাকথিত ‘অপ্রতিসম যুদ্ধ’ কৌশলের বড় শক্তি।

এই বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রও কম খরচের নতুন ড্রোন তৈরি করেছে। এর নাম লুকাস (লো-কস্ট আনক্রুড কমব্যাট অ্যাটাক সিস্টেম)। প্রতিটি লুকাস ড্রোনের দাম প্রায় ৩৫ হাজার ডলার, যা খরচ ও কার্যকারিতার দিক থেকে শাহেদ ড্রোনের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে।

রোববার ইরানের সামরিক বাহিনী অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই লুকাস ড্রোন ব্যবহার করছে। তাদের দাবি, শাহেদ ড্রোনের মতো দেখতে এসব ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়ে দায় ইরানের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

লুকাস ড্রোনের সক্ষমতা

অ্যারিজোনাভিত্তিক কোম্পানি স্পেকট্রেওয়ার্কস তৈরি করেছে লুকাস ড্রোন। এর ওজন প্রায় ৮১.৫ কেজি, যা শাহেদ ড্রোনের প্রায় ২০০ কেজির তুলনায় অনেক হালকা।

ড্রোনটি প্রায় ১৫ হাজার ফুট উচ্চতায় ঘণ্টায় প্রায় ১৯৪ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে এবং একটানা প্রায় ৬ ঘণ্টা আকাশে থাকতে সক্ষম।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বিশেষ ইউনিট টাস্ক ফোর্স স্করপিয়ন স্ট্রাইক এই ড্রোন ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে কামিকাজে হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ড্রোন ব্যবসায় ট্রাম্প পরিবার

ড্রোন প্রযুক্তির কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘আনলিশিং আমেরিকান ড্রোন ডমিন্যান্স’ নামে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এর লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন শিল্পকে বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে নিয়ে যাওয়া।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ট্রাম্পের দুই ছেলে এরিক ট্রাম্প এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পাওয়ারাস-এর সঙ্গে একটি বড় ধরনের একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ড্রোন উৎপাদন কয়েকগুণ বাড়ানো হবে।

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, ড্রোন প্রযুক্তিতে ইরান ধীরে ধীরে তাদের আধিপত্য হারাচ্ছে এবং আকাশপথ এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ ইতিমধ্যে বিভিন্ন কোম্পানিকে দ্রুত ৩ লাখ স্বল্পমূল্যের ড্রোন সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে। এসব ড্রোন ইরানের বিরুদ্ধে চলমান উত্তেজনায় কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে