ঢাকা, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

জাকাত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মাসয়ালা

২০২৬ মার্চ ০৯ ১৯:২২:২০
জাকাত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মাসয়ালা

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাকাত একটি আর্থিক ইবাদত। এটি আদায় করা ফরজ।পবিত্র মাহে রমজান আমাদের জন্য অবারিত ইবাদত-বন্দেগি ও দান-খয়রাতের বাড়তি সুযোগ নিয়ে আসে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর নেক বান্দারা বেশি বেশি পুণ্যকর্ম করে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করেন।

জাকাত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মাসআলা

১. কারো ঋণ যদি এত বেশি হয় যে তা বাদ দিলে তার কাছে নিসাব পরিমাণ জাকাতযোগ্য সম্পদ অবশিষ্ট থাকে না, তাহলে তার ওপর জাকাত ফরজ হবে না।(মুয়াত্তা মালেক: ১০৭; আদ্দুররুল মুখতার: ২/২৬৩; বাদায়েউস সানায়ে: ২/৮৩)

তবে মনে রাখতে হবে, এই প্রসিদ্ধ মাসআলাটি সব ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ঋণ সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে—ক. প্রয়োজন পূরণের জন্য বাধ্য হয়ে নেওয়া ঋণ।খ. ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে নেওয়া ঋণ।

প্রথম ধরনের ঋণ সম্পদ থেকে বাদ দিয়ে নিসাব বাকি থাকে কি না তা হিসাব করতে হবে। নিসাব থাকলে জাকাত ফরজ হবে, অন্যথায় নয়। কিন্তু উন্নয়নমূলক কাজে নেওয়া ঋণ—যেমন কারখানা নির্মাণ, ভাড়া দেওয়ার জন্য বা বিক্রির উদ্দেশ্যে ভবন নির্মাণ কিংবা ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য নেওয়া ঋণ—জাকাতের হিসাবের সময় ধর্তব্য হবে না। অর্থাৎ এ ধরনের ঋণের কারণে জাকাত কম দেওয়া যাবে না।(মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস: ৭০৮৭)

২. বিয়ে-শাদিতে মোহরানার যে অংশ বাকি থাকে তা স্বামীর কাছে স্ত্রীর পাওনা। কিন্তু এই পাওনা স্বামীর ওপর জাকাত ফরজ হওয়া না হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে না। অর্থাৎ জাকাতযোগ্য সম্পদের হিসাবের সময় এই ঋণ বাদ দেওয়া যাবে না; বরং সমুদয় সম্পদের জাকাত দিতে হবে।(রদ্দুল মুহতার: ২/২৬১)

উল্লেখ্য, বিনা প্রয়োজনে মোহরানা আদায়ে বিলম্ব করা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

৩. অন্যকে যে টাকা ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে বা কোনো ব্যবসায়ী পণ্য বাকিতে বিক্রি করেছেন—এই পাওনা টাকা পৃথকভাবে বা অন্য জাকাতযোগ্য সম্পদের সঙ্গে মিলিতভাবে নিসাব পূর্ণ করলে তারও জাকাত দিতে হবে।(মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস: ৭১১১–৭১১৩, ৭১২১, ৭১২৩, ৭১২৮; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ৬/৪৮৪–৪৮৬)

৪. পাওনা টাকা আদায় হওয়ার পর ওই টাকার জাকাত দেওয়া ফরজ হয়। তার আগে দেওয়া জরুরি নয়, তবে আগে দিলে তা জাকাত হিসেবে গণ্য হবে।(মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস: ১০৩৪৭, ১০৩৫৬)

৫. পাওনা টাকা আদায় হতে যদি কয়েক বছর সময় লেগে যায়, তাহলে টাকা পাওয়ার পর বিগত সব বছরের জাকাত আদায় করা ফরজ হবে।(মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস: ৭১১৬, ৭১২৯, ৭১৩১; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস: ১০৩৪৬, ১০৩৫৬)

৬. স্বামীর কাছে পাওনা মোহরানা নিসাব পরিমাণ হলেও তা স্ত্রীর হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত তাতে জাকাত ফরজ হয় না। হাতে পাওয়ার পর যদি আগে থেকে তার কাছে নিসাব পরিমাণ জাকাতযোগ্য সম্পদ না থাকে, তাহলে তখন থেকে বছর গণনা শুরু হবে এবং বছর পূর্ণ হলে জাকাত আদায় করতে হবে।

৭. আর যদি স্ত্রী আগে থেকেই নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়ে থাকেন, তাহলে পরে পাওয়া মোহরানা সেই সম্পদের সঙ্গে যোগ হবে এবং পূর্বের সম্পদের বছর পূর্ণ হলে সব সম্পদের জাকাত দিতে হবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর



রে