ঢাকা, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

শেয়ার কারসাজিতে রেকর্ড জরিমানা, আদায় শুভঙ্করের ফাঁকি

২০২৬ মার্চ ০৮ ২৩:২২:৪৬
শেয়ার কারসাজিতে রেকর্ড জরিমানা, আদায় শুভঙ্করের ফাঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে গত দেড় বছরে কারসাজিকারীদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিভিন্ন সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে প্রভাবশালী বিনিয়োগকারীদের ওপর প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিশাল অংকের জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। ১৯৯৩ সালে বিএসইসি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটিই শেয়ারবাজারে সবচেয়ে বড় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ। তবে জরিমানার ঘোষণা বড় হলেও আদায়ের চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। এখন পর্যন্ত মোট জরিমানার মাত্র ০.৩৫ শতাংশ বা প্রায় ৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা আদায় সম্ভব হয়েছে।

জরিমানার কবলে যারা

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গঠিত খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন এই এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন শুরু করে। সবচেয়ে বড় জরিমানা করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো লিমিটেড ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে, যার পরিমাণ ৪২৮ কোটি টাকা। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা আবুল খায়ের হিরু এবং তার সহযোগী ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানসহ অন্যদের ১৯৪ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিমা খাতের শেয়ার কারসাজিতে জড়িত আরও অন্তত ৫০ জন বিনিয়োগকারীকে ৩৫১ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

কারসাজির শিকার কোম্পানিগুলো

তদন্তে দেখা গেছে, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, ডেল্টা লাইফ, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, সোনালী পেপার, ফরচুন সুজ এবং জেমিনি সি ফুডসহ বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজি করা হয়েছিল। আগের কমিশনের আমলে এসব অনিয়ম অনেকটা উপেক্ষা করা হলেও বর্তমান কমিশন সেগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে।

আদায়ে ধীরগতি ও আইনি জটিলতা

বিএসইসির নিয়ম অনুযায়ী, জরিমানা আরোপের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তা পরিশোধ করতে হয়। তবে দণ্ডপ্রাপ্তরা তিন মাসের মধ্যে রিভিউ এবং ছয় মাসের মধ্যে রিভিশনের আবেদন করতে পারেন। বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম জানান, কারসাজিকারীরা যাতে অবৈধভাবে কোনো মুনাফা করতে না পারে, সেজন্য তাদের অর্জিত মুনাফার একটি বড় অংশ জরিমানা করা হয়েছে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার কারণে এই অর্থ আদায় করতে সময় লাগছে। অনেক বিনিয়োগকারী নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করায় আদায়ের গতি আরও মন্থর হয়ে পড়েছে।

জরিমানা অনাদায়ে ডিভিডেন্ড না দেওয়ায় আরও ২৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়মতো জরিমানা আদায় করা না গেলে বাজার সংস্কারের এই উদ্যোগের কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে