ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

প্যারোলে মায়ের দাফন, কারাগারে যেতেই বাবার মৃত্যু সংবাদ

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ১১:০১:২৯
প্যারোলে মায়ের দাফন, কারাগারে যেতেই বাবার মৃত্যু সংবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজনৈতিক কোনো পদে না থাকলেও একের পর এক মামলায় প্রায় আড়াই মাস ধরে কারাভোগ করছেন কক্সবাজারের রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি এলাকার দুই সহোদর ফরিদুল আলম (৪৩) ও মোহাম্মদ ইসমাইল (৩৮)। এ সময়ের মধ্যে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে মারা গেছেন তাদের বাবা-মা।

গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে মারা যান তাদের মা মোস্তফা বেগম। মায়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পান দুই ভাই। পুলিশি পাহারায়, হাতে হাতকড়া পরা অবস্থায় তারা মায়ের শেষ বিদায়ে অংশ নেন। জানাজা শেষে আবার তাদের কারাগারে নেওয়া হয়।

এর দুই দিনের মাথায় সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে মারা যান তাদের বাবা নুর আহমদ (৯০)। মঙ্গলবার দুপুরে দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের পানেরছড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ-সংলগ্ন মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই স্থানে গত শনিবার তাদের মায়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেদিনই বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা জানিয়েছিলেন দুই ভাই।

মায়ের জানাজায় হাতকড়া পরা অবস্থায় দুই ভাইকে মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়। কখনো কবরের পাশে নীরবে মাথা নিচু করে, কখনো স্বজনদের বুকে মুখ গুঁজে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

দুই ভাইয়ের দাবি, তারা ষড়যন্ত্রের শিকার। একের পর এক ‘মিথ্যা মামলা’ দিয়ে তাদের কারাগারে রাখা হয়েছে। এতে পুরো পরিবার চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। মামলার বোঝা ও কারাবাসের কারণে বাবা-মায়ের শেষ সময়ে পাশে থাকতে না পারাই এখন তাদের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ কিংবা এর কোনো অঙ্গসংগঠনের কমিটিতে নাম না থাকলেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক মামলা দেওয়া হয়েছে। বার্ধক্যের পাশাপাশি ছেলেদের কারাবাসের দুশ্চিন্তায় বাবা-মায়ের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে বলে দাবি স্বজনদের।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় আড়াই মাস আগে খুঁনিয়াপালং ইউনিয়নের একটি মামলায় প্রথমে ফরিদুল ও ইসমাইলকে আটক করে পুলিশ কারাগারে পাঠায়। ওই মামলায় জামিন পাওয়ার পর কারাগারে থাকা অবস্থায় দক্ষিণ মিঠাছড়ির আরেকটি মামলায় তাদের পুনরায় আটক দেখানো হয়। সেখান থেকে জামিন পাওয়ার পর রামু উপজেলার এক বিএনপি নেতা মাহিন চৌধুরীর দায়ের করা আরেকটি মামলায় আবারও গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এভাবে ধারাবাহিক মামলায় জড়িয়ে টানা আড়াই মাস ধরে কারাভোগ করছেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, ফরিদুল ও ইসমাইল দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। তবে তারা কোনো কমিটির পদধারী নন। পূর্বশত্রুতার জেরে একটি পক্ষ একাধিক মামলায় তাদের নাম যুক্ত করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রামু উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাঈদ হোসেন আকাশ। মায়ের জানাজায় হাতকড়া পরা অবস্থায় দুই ভাইয়ের একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “আমার ইউনিয়নে এত বড় আওয়ামী নেতা ছিল, জানা ছিল না। কী নিষ্ঠুর রাজনীতি। দ্বিতীয় রমজানে মা’কে হারিয়ে জেলখানা থেকে প্যারোলে মুক্তি নিয়েছিল দুই সহোদর। আজ পঞ্চম রমজানে ইফতারের পর বাবাকেও হারাল। মানবিকতা হোক প্রতিহিংসার রাজনীতির ঊর্ধ্বে।”

ইসমাইলের স্ত্রী কুলছুমা বেগম দাবি করেন, তার স্বামী নির্দোষ এবং কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। অহেতুক মামলায় জড়িয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, “বাবা-মা দুজনই মারা গেলেন। কিন্তু সন্তান হিসেবে শেষ সেবাটুকুও করতে পারলেন না।”

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে