ঢাকা, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

রপ্তানি সংকট ও বাড়তি ব্যয়ে বস্ত্র খাতের ব্যবসায় মন্দাভাব

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ২৩:৩৪:২৩
রপ্তানি সংকট ও বাড়তি ব্যয়ে বস্ত্র খাতের ব্যবসায় মন্দাভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শীর্ষস্থানীয় টেক্সটাইল কোম্পানিগুলোর ব্যবসায় চলতি অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে বড় ধরনের মন্দা দেখা দিয়েছে। বিশ্ববাজারে সুতোর দাম কমে যাওয়া, বৈশ্বিক চাহিদা হ্রাস এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই খাতের বড় কোম্পানিগুলোর রাজস্ব ও মুনাফা উভয়ই সংকুচিত হয়েছে। শেয়ারবাজারের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিকাংশ জায়ান্ট স্পিনিং ও টেক্সটাইল মিলের আয় গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। মালেক স্পিনিংয়ের রাজস্ব ৬ শতাংশ কমে ৬৭৩ কোটি টাকা এবং স্কয়ার টেক্সটাইলসের আয় ১৪ শতাংশ কমে ৫৮০ কোটি টাকা হয়েছে। এছাড়া এনভয় টেক্সটাইলসের আয় ১০ শতাংশ কমে ৪১২ কোটি টাকা এবং শাশা ডেনিমসের ৪ শতাংশ কমে ৩২৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

আয় কমলেও মুনাফার ওপর এর প্রভাব ছিল আরও বেশি। সুতোর দাম পড়ে যাওয়ায় কোম্পানিগুলোর প্রফিট মার্জিন আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। মালেক স্পিনিংয়ের মুনাফা ৩৭ শতাংশ কমে ৩১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় ধস নেমেছে স্কয়ার টেক্সটাইলসে, যাদের মুনাফা ৯৩ শতাংশ কমে মাত্র ২ কোটি ৭৭ লাখ টাকায় ঠেকেছে। শাশা ডেনিমসের মুনাফা ৬৫ শতাংশ কমে ৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং মতিন স্পিনিংয়ের মুনাফা ৩৬ শতাংশ কমে ৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা হয়েছে। সবচেয়ে করুণ দশা ফারইস্ট নিটিংয়ের, যাদের মুনাফা ৯৯ শতাংশ কমে মাত্র ১০ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। এর বিপরীতে এনভয় টেক্সটাইলস কিছুটা ব্যতিক্রমী পারফরম্যান্স অর্থাৎ ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়ে ৩৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছে।

কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুতোর বাজারদর কাঁচামালের খরচের চেয়ে দ্রুতগতিতে কমায় তারা মুনাফা ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। স্কয়ার টেক্সটাইলস জানায়, সুতোর দাম কমার পাশাপাশি ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ ব্যয় তাদের নিট মুনাফা কমিয়ে দিয়েছে। মালেক স্পিনিংয়ের মতে, কারখানার ওভারহেড খরচ বাড়লেও রপ্তানি চাহিদা কম থাকায় এবং কম দামে সুতো বিক্রি করতে হওয়ায় তাদের আয়ে টান পড়েছে। এদিকে এনভয় টেক্সটাইলস তাদের কৌশল পরিবর্তন করে সুতো রপ্তানি কমিয়ে দিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে কাপড়ের উৎপাদন বাড়িয়েছে। অন্যদিকে মতিন স্পিনিং বেশি পরিমাণে সুতো বিক্রি করলেও প্রতি কেজির গড় দাম ৩.৬৮ ডলার থেকে ৩.৪৭ ডলারে নেমে আসায় তাদের রাজস্ব কমেছে।

শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, সুতোর দামের ওঠানামা ছাড়াও গত দুই বছরে গ্যাস ও বিদ্যুতের উচ্চমূল্য এবং মজুরি বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে দেশি মিলগুলো আমদানিকৃত সুতোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। পাশাপাশি সরকারি ক্যাশ ইনসেনটিভ বা নগদ প্রণোদনা কমিয়ে দেওয়া এবং তা সময়মতো না পাওয়াও পোশাক রপ্তানিকারকদের দেশি সুতো ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সুতা আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর কথা ভাবছে সরকার। তবে উৎপাদন খরচ না কমলে এবং ব্যাংক ঋণের শর্ত শিথিল না হলে আগামী মাসগুলোতেও এই খাতের কোম্পানিগুলোর আয় ও মুনাফা চাপে থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সালাউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে