ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

গভর্নর পদ ছাড়ছেন, মুখ খুললেন আহসান এইচ মনসুর

২০২৬ জানুয়ারি ২৯ ১৮:১৪:৪১
গভর্নর পদ ছাড়ছেন, মুখ খুললেন আহসান এইচ মনসুর

নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজের ছুটি ও পদত্যাগ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজব সরাসরি নাকচ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি কোনো ছুটির আবেদন করেননি এবং পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, “আমি কোনো ছুটির দরখাস্ত দিইনি, ছুটি মঞ্জুরও হয়নি, ছুটি নেওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। আমি প্রতিদিন রাত ১০টার আগে বাসায় যেতে পারি না। ছুটি নেওয়ার সময় কোথায়?”

সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর অভিযোগ করেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়াচ্ছে এবং উসকানি দিচ্ছে। তিনি বলেন, নবগঠিত ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। “আমরা গণতান্ত্রিক চর্চায় বিশ্বাস করি। প্রতিবাদের অধিকার সবার আছে, তবে কাজের মাধ্যমেই আমরা প্রমাণ করতে চাই যে গ্রাহকদের সন্তুষ্ট করা সম্ভব,” বলেন তিনি।

গভর্নর দাবি করেন, গত এক বছরে বাংলাদেশ ব্যাংক যে সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে, তা গত ১৪–১৫ বছরেও হয়নি। তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় রেগুলেটরি হস্তক্ষেপ কমানো হচ্ছে। “ব্যাংকের শাখা অনুমোদন, ভাড়া বা স্কয়ার ফিট নির্ধারণ আমাদের কাজ নয়। আমাদের মূল দায়িত্ব ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট, ক্যাপিটাল ও ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট উন্নয়ন,” যোগ করেন তিনি।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের মুনাফা প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, সরকার একা সব দায় বহন করতে পারে না এবং বিশ্বব্যাপী ‘বার্ডেন শেয়ারিং’ একটি স্বীকৃত পদ্ধতি। তিনি জানান, কিছু আমানতকারী দুই বছরের জন্য ৪ শতাংশ মুনাফা পেলেও আগের বছরগুলোতে তারা ১২ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পেয়েছেন। ভবিষ্যতে তারা ৯ দশমিক ৫ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকার জনগণের অর্থ ব্যবহার করে এই ব্যাংককে অস্বাভাবিক মাত্রায় সহায়তা করেছে। “আমার প্রত্যাশার চেয়েও সরকার বেশি সহায়তা দিয়েছে। এজন্য আমানতকারীদের সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত,” বলেন গভর্নর।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের কয়েকটি শাখায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও ভিডিও ধারণ করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার অভিযোগের বিষয়ে গভর্নর জানান, বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারিতে রয়েছে এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া হবে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের উদ্বোধন নির্ধারিত সময়ে না হওয়ার পেছনেও এসব অপতৎপরতা দায়ী বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইসলামী ব্যাংকিংয়ে মুনাফা বিতরণ সংক্রান্ত এএওআইএফআই (AAOIFI) স্ট্যান্ডার্ড প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, এটি নতুন কোনো মানদণ্ড আরোপের বিষয় নয়; বরং চলমান একটি ব্যাংকের বাস্তব সমস্যা সমাধানের প্রয়াস। “ব্যাংক টিকে না থাকলে মুনাফা দেবে কে—সে বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হবে,” বলেন তিনি।

সবশেষে সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গভর্নর বলেন, “নিজেরা ব্যাংকে গিয়ে দেখুন, শুনুন, বুঝুন। অন্যের কথায় বিভ্রান্ত হবেন না। সাবেক পাঁচটি ব্যাংক এখন সরকার মালিকানাধীন ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে। সবাই আস্থা রাখুন—কারও টাকার তছরুপ হবে না।”

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে