ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

তিন মন্ত্রণালয় ছেড়ে না যাওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন জামায়াত আমির

২০২৬ জানুয়ারি ২৯ ১৮:৩৭:১৮
তিন মন্ত্রণালয় ছেড়ে না যাওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক : জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি সরকারের সময় জামায়াতের নেতারা তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকলেও সেগুলো দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষার জন্যই তারা সরকার ছাড়েননি।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা-১২ আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী সাইফুল আলম খানের নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, “দু–একজন নেতা বলছেন—আপনারা এত সৎ ছিলেন, তাহলে সরকার ছেড়ে গেলেন না কেন? আমরা ছেড়ে যাইনি, অন্তত তিনটা মন্ত্রণালয় যেন বেঁচে থাকে। দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা পাক, কিছুটা ঠিকানা পাক এবং দেশের মানুষের মনে আস্থা তৈরি হোক—এই জন্যই আমরা দায়িত্বে ছিলাম।”

তিনি বলেন, জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী এবং সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ বিএনপি সরকারের সময় তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

সম্প্রতি বিএনপির দুর্নীতি নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষাপটে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ময়মনসিংহের এক নির্বাচনী জনসভায় প্রশ্ন তুলেছিলেন—২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জামায়াতের দুই নেতা সরকারে ছিলেন কেন। সেই বক্তব্যের জবাব দিতেই জামায়াত আমির এ ব্যাখ্যা দেন।

কারওয়ান বাজারের জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করা গেলে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, “আমি রাজনীতি করব, আমি চাঁদাবাজিও করব—কিন্তু আমাকে চাঁদাবাজ বলবেন না—এটা হতে পারে না। আপনি যখন চাঁদাবাজি করবেন, তখন আপনাকে চাঁদাবাজই বলা হবে।”

কৃষক, পরিবহন মালিক এবং পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি সারা দেশের ব্যবসায়ীদের এ অনিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতসহ ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ক্ষমতায় গেলে নির্বাচনের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই দেশের চিত্র পাল্টে যাবে। তার দাবি, “৯০ শতাংশ চাঁদাবাজের হাত অবশ হয়ে যাবে। বাকি ১০ শতাংশকে আগে সতর্ক করা হবে। এরপরও কেউ না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাঁদাবাজ কার আত্মীয়—তা দেখা হবে না।”

তিনি আরও বলেন, চারদিকে নানা অশুভ আলামত দেখা যাচ্ছে—মা-বোনদের ওপর হামলা, মানুষ হত্যা, অফিস ভাঙচুর, নির্বাচনী প্রচারে বাধা ও সংঘর্ষ উসকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়ে জনগণের আস্থা অর্জনের আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, তা না হলে ব্যর্থতার দায় তাদেরই নিতে হবে।

প্রতিপক্ষের উদ্দেশে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের কথা বললে গণতান্ত্রিক আচরণও করতে হবে এবং অন্যকে সম্মান জানাতে হবে।সমাবেশের একপর্যায়ে জামায়াত আমির ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী সাইফুল আলম খানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে