ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

এক নারীর দুই স্বামী: একজন দেশে, একজন বিদেশে

২০২৬ জানুয়ারি ২৭ ২০:৫৯:৩৫
এক নারীর দুই স্বামী: একজন দেশে, একজন বিদেশে

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রবাসী স্বামীকে যুক্তরাষ্ট্রে রেখে দেশে তালাকপ্রাপ্ত প্রথম স্বামীর সঙ্গে দীর্ঘ চার বছর ধরে সংসার চালিয়ে যাওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে নওগাঁর মাহফুজা বেগম নামের এক নারীর বিরুদ্ধে। নওগাঁ শহরের গোস্তহাটির মোড় এলাকার একটি ফ্ল্যাটে এই অভিনব প্রতারণার ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মাহফুজা আত্রাই উপজেলার সাহাগোলা ইউনিয়নের কিতমত জাতপাড়া গ্রামের মেয়ে বলে জানা গেছে।

বিয়ের নথিপত্র অনুযায়ী, মাহফুজা বেগম ২০২১ সালে তার প্রথম স্বামী সান্টু রহমানকে তালাক দেন। এরপর একই বছরের ১৪ মার্চ তিনি ৩৩ লাখ টাকা দেনমোহরে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সামছুল আলমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পরপরই সামছুল আলম কর্মস্থলে ফিরে গেলে সেই সুযোগে মাহফুজা পুনরায় তার তালাকপ্রাপ্ত প্রথম স্বামীর সঙ্গে নওগাঁ শহরের বন্ধন টাওয়ারে বসবাস শুরু করেন। প্রায় চার বছর ধরে তারা একই ছাদের নিচে সপরিবারে বসবাস করে আসছেন বলে প্রতিবেশীরা নিশ্চিত করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মাহফুজা ও তার প্রথম স্বামী সান্টুর একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। বগুড়ায় থাকার সময় ২০১৩ সালে সামছুল আলমের সঙ্গে মাহফুজার পরিচয় ও প্রেম হয়, যার সূত্র ধরেই তিনি প্রথম স্বামীকে তালাক দিয়ে প্রবাসীকে বিয়ে করেন। তবে বিয়ের পর প্রবাসী স্বামীর পাঠানো সংসার খরচের টাকায় তিনি প্রথম স্বামীর সঙ্গেই গোপনে ঘর-সংসার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এমনকি দেড় বছর আগে গ্রামের বাড়িতে একটি অনুষ্ঠানেও তাদের দুজনকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ঘনিষ্ঠভাবে চলাফেরা করতে দেখা গেছে।

এদিকে, প্রবাসী সামছুল আলম তার প্রথম স্ত্রীর কাছে এই বিয়ের কথা গোপন রাখলেও পারিবারিক চাপে পরবর্তীতে সবকিছু স্বীকার করেন। এর প্রেক্ষিতে সামছুলের প্রথম স্ত্রী রোকেয়া বেগম মাহফুজা ও সান্টুসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার বাদী দাবি করেন, মাহফুজা কৌশলে ২০১৩ সাল থেকে বিভিন্নভাবে তাঁর স্বামীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন এবং সেই টাকাতেই এখন প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিলাসী জীবনযাপন করছেন।

আইনজীবীদের মতে, জীবিত স্বামী থাকতে দ্বিতীয় কারও সঙ্গে সংসার করা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারা মোতাবেক এই অপরাধ প্রমাণিত হলে মাহফুজার সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। যদিও সান্টু ও মাহফুজা বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং প্রবাসী সামছুল আলম একে অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন, তবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের দেওয়া প্রত্যয়নপত্র অনুযায়ী তারা বর্তমানে স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই একত্রে বসবাস করছেন।

এই ঘটনাটি সমাজ ও নৈতিক অবক্ষয়ের এক চরম উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমান অর্থবছরে পারিবারিক কলহ ও প্রতারণার মামলার সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি উদ্বেগজনক। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের সামাজিক অপরাধ রোধ করা কঠিন হবে। বাজারে প্রচলিত অর্থের অপব্যবহার এবং অবৈধ পথে আসা ক্যাশ প্রবাহের মাধ্যমে এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড চললে তা সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে