ড্রোন, বাণিজ্য ও ভূরাজনীতি: ইউক্রেন–চীন সমীকরণে জটিল কৌশল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নব্বইয়ের দশকের শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর যখন ইউক্রেন একটি নবীন পুঁজিবাদী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বমঞ্চে আত্মপ্রকাশ করে, তখন চীনের কাছে দেশটির গুরুত্ব সীমাবদ্ধ ছিল কাঁচামাল সরবরাহে—আকরিক লোহা, শস্য ও সূর্যমুখী তেলের মতো পণ্যে। কিন্তু সময়ের প্রবাহে এই সম্পর্কের চরিত্র নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। পরিত্যক্ত সোভিয়েত অস্ত্রভান্ডার থেকে শুরু করে আধুনিক ড্রোননির্ভর যুদ্ধ—গত তিন দশকে কিয়েভ ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক ঘুরপাক খেয়েছে এক জটিল কৌশলগত বৃত্তে।
এই সম্পর্কের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় শুরু হয় ১৯৯৮ সালে, যখন ইউক্রেন সোভিয়েত আমলের বিশাল বিমানবাহী রণতরী ‘ভারিয়াগ’ চীনের কাছে বিক্রি করে দেয়। মাইকোলাইভ বন্দরে পড়ে থাকা এই জাহাজটি মাত্র ২০ মিলিয়ন ডলারে কেনে বেইজিং। সে সময় দাবি করা হয়েছিল, এটি ভাসমান ক্যাসিনো ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই সেই জাহাজ রূপ নেয় চীনের প্রথম কার্যকর বিমানবাহী রণতরী লিয়াওনিং-এ—যা বিশ্ব প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের বিস্মিত করে।
একটি রণতরীতেই থেমে থাকেনি সহযোগিতা। চীনের আধুনিক প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে ইউক্রেনের কারিগরি অবদান ছিল নীরব কিন্তু গভীর। হেলিকপ্টার ও ভারী ট্যাংক ইঞ্জিনের নকশা, গ্যাস টারবাইন প্রযুক্তি, এমনকি নৌবাহিনী ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার জ্ঞান—এসব ক্ষেত্রে কিয়েভের প্রযুক্তি চীনের সামরিক সক্ষমতাকে দ্রুত এগিয়ে দেয়।
ইউক্রেন পরবর্তীতে স্বীকার করে যে, এক পর্যায়ে তারা অবৈধভাবে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ছয়টি ‘কেএইচ-৫৫’ ক্রুজ মিসাইল চীনে পাঠিয়েছিল। এই প্রযুক্তি হস্তান্তর বেইজিংয়ের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে কয়েক দশক এগিয়ে দেয় বলে মনে করেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।
বর্তমান রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ এই সম্পর্ককে পুরোপুরি নতুন মোড়ে নিয়ে গেছে। আজ ইউক্রেনীয় ড্রোন বিশেষজ্ঞরাই প্রকাশ্যে বলছেন, যুদ্ধের গতি অনেকাংশে নির্ভর করছে বেইজিংয়ের সিদ্ধান্তের ওপর। কিয়েভের ড্রোন যুদ্ধের অগ্রদূত আন্দ্রেই প্রোনিন আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, চীন চাইলে মাত্র একদিনেই যুদ্ধ থামিয়ে দিতে পারে—ড্রোন যন্ত্রাংশের রপ্তানি বন্ধ করলেই যথেষ্ট।
ইউক্রেনের আকাশে যে বিপুলসংখ্যক ড্রোন উড়ছে, তার প্রায় প্রতিটি অংশেই রয়েছে চীনা শিল্পের ছাপ। ফ্রেম, মোটর, ফ্লাইট কন্ট্রোলার, লিথিয়াম ব্যাটারি থেকে শুরু করে নেভিগেশন মডিউল—সবই উৎপাদিত হচ্ছে চীনের কারখানায়।
‘স্নেক আইল্যান্ড’ নামে একটি সামরিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের ড্রোন শিল্প এখন কার্যত চীনা আমদানিনির্ভর। নিওডিমিয়াম ম্যাগনেট কিংবা থার্মাল সেন্সরের মতো কৌশলগত উপকরণে চীনের একচেটিয়া আধিপত্য কিয়েভকে কূটনৈতিকভাবে সংবেদনশীল অবস্থানে ফেলেছে।
এই বাস্তবতায় ইউক্রেনের নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, যুদ্ধ–পরবর্তী পুনর্গঠনে চীনই হতে পারে সবচেয়ে বড় কৌশলগত অংশীদার। ২০১১ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ভিক্তর ইয়ানুকোভিচের আমলে যে ‘কৌশলগত অংশীদারি’ শুরু হয়েছিল, কিয়েভ এখন সেটির আধুনিক ও বাস্তবমুখী সংস্করণ চায়।
এ ছাড়া চীনের উচ্চাভিলাষী বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পে ইউক্রেনের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর–পূর্ব চীন থেকে মধ্য এশিয়া ও ককেশাস পেরিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর পথে ইউক্রেনকে একটি প্রধান লজিস্টিক হাব বা সেতুবন্ধনকারী রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায় বেইজিং।
তবে বিশ্লেষক ইগার তিশকেভিচের মতে, ইউরোপীয় বাজারে চীনের প্রবেশ সহজ করতে হলে ইউক্রেনকে সোভিয়েত আমলের চওড়া রেললাইন বদলে পশ্চিমা মানদণ্ডের ন্যারো গেজ ট্র্যাকে রূপান্তর করতে হবে।
যুদ্ধ চললেও বাস্তব বাণিজ্য থেমে নেই। চীন এখনো ইউক্রেনীয় ইস্পাত, ভোজ্য তেল ও সয়াবিনের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। এই বাণিজ্যই যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনীয় অর্থনীতিকে ন্যূনতমভাবে সচল রাখছে।
বিশ্লেষক অ্যালেক্সি কুশ মনে করেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে ব্যর্থ হওয়া ইউক্রেনের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ঐতিহাসিক ভুল হয়ে উঠতে পারে। তাঁর মতে, কিয়েভের কূটনীতি কেবল পশ্চিমমুখী হলে চলবে না; চীনসহ পুরো ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে হবে। সমরাস্ত্রের গোপন অতীত আর ড্রোননির্ভর অনিশ্চিত বর্তমান পেরিয়ে ইউক্রেন এখন এমন এক ভবিষ্যতের কল্পনা করছে—যেখানে দেশটি হবে পূর্ব ও পশ্চিমের বাণিজ্যিক সংযোগস্থল, যুদ্ধের সৈন্য নয়, চলবে পণ্যবাহী ট্রেন ও জাহাজ।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
- ভারতে হু হু করে কেন বাড়ছে এআই চশমার চাহিদা
- সিনেমার সোনালী তারকাদের আবেগঘন আড্ডা
- চুয়েটে হঠাৎ নতুন ভিসি, ক্ষোভে আন্দোলনে নামছেন শিক্ষার্থীরা
- আদালতে যা করলেন গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী
- ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তিন গণমাধ্যমের মামলা
- মসজিদে সোফা পেতে এমপি’র সভা, নেটদুনিয়ায় তোলপাড়
- পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে ইউনাইটেড ফাইন্যান্সের নতুন অর্থায়ন চুক্তি
- তদন্তের মুখে ১৭ মাসে ৩৫১ শতাংশ বাড়লো ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার
- বহুজাতিক কোম্পানির ৮৫ কোটি টাকার শেয়ার ছাড়লেন বিদেশিরা
- এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর চিরকুট নিয়ে যা বললেন গবেষক
- পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তা বরখাস্ত
- নগদ ও আইএফআইসি ব্যাংকের নতুন চুক্তি
- ছেলে-মেয়ের বয়ঃপ্রাপ্তির আলামত কী? জানুন শরিয়তের নির্দেশনা
- সোনালী ব্যাংকের মুনাফায় বড় লাফ, এক বছরে বেড়েছে ১৯৩ শতাংশ
- চুরির পর নতুন নোটে খরচ, যেভাবে পুলিশের জালে ধরা পড়ল চক্র
- এবার ঢাকার এমন সাহসে কাঁপছে দিল্লি!
- বাড়িওয়ালা-ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন আইন
- রাজনীতির বাইরে জিন্নাহর যে পরিচয় সামনে আনলেন ফাহাম আব্দুস সালাম
- স্ত্রীর মৃত্যুর দিন বিকাল ৪টা পর্যন্ত যেখানে ছিলেন এমপি নজরুল
- কবর থেকে তোলা হবে চিত্রনায়ক ও তার বাবার মরদেহ, জানা গেল কারণ
- এক ট্রিপেই বাড়তি ৫ হাজার টাকা; বাসভাড়া নিয়ে বড় দাবি
- সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে ২০ দিনে নতুন আমানত ২৭০০ কোটি টাকা
- অপ্রতিম হত্যার নেপথ্যে ৫ হাজার টাকা! তদন্তে মিলল নতুন তথ্য
- স্কুলে বোরকা-নেকাব নিষিদ্ধের ঘোষণা
- প্রবাসীদের জন্য সুখবর, ৩ শহরে কনস্যুলেট খুলছে বাংলাদেশ
- টানা উত্থানের পর স্বাভাবিক দর সংশোধন শেয়ারবাজারে
- ২১ সেপ্টেম্বর ব্লকে পাঁচ কোম্পানির বড় লেনদেন
- ২১ সেপ্টেম্বর লেনদেনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২১ সেপ্টেম্বর দর পতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২১ সেপ্টেম্বর দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ইসলামী ব্যাংকের সংকট নিরসনে ব্যর্থতার অভিযোগ, প্রশাসকের পদত্যাগ দাবি
- সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে টাকা তোলার হিড়িক, নতুন আমানতেও বড় অঙ্ক
- এবার রিটেইল পোর্টফোলিও বিক্রি করবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড
- এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর দাদির মুখে নতুন অভিযোগ
- ৫ মিউচুয়াল ফান্ডের অডিট রিপোর্টে আপত্তি
- গ্রামীণফোনের অন্তর্বর্তীকালীন ক্যাশ ডিভিডেন্ড বিতরণ সম্পন্ন
- এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যু, মামার বক্তব্যে নতুন প্রশ্ন
- জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর নেপথ্য ৫ কারণ
- ফার্মা-গার্মেন্টসসহ শিল্পখাতে নতুন দিকনির্দেশনা, গুরুত্ব পাচ্ছে আইপিআর
- সচিবালয় অভিমুখে ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা
- ডিভিডেন্ড পেলো বিনিয়োগকারীরা
- ডিসেম্বর ঘিরে হাসিনার মাস্টারপ্ল্যান
- গ্রামীণফোন-বাংলালিংকসহ বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের আলোচনা
- আশুলিয়ার প্রীতি গ্রুপের সব কারখানায় ছুটি ঘোষণা
- অপ্রতিম হত্যায় তুহিনের পুরোনো পরিচয় জানাল পুলিশ
- ৫ মিনিটে ঘুরে আসুন ৩ জেলা, বাংলাদেশেই আছে অবাক করা এই জায়গা
- পরিচালকদের পদত্যাগের ঘটনায় সিএসইর প্রশ্ন, জবাবে যা বলল ব্যাংক
- ২১ সেপ্টেম্বরের মুদ্রার বিনিময় হার এক নজরে
- নোমান গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ-বিতর্ক, এবার বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্বারস্থ
- প্রাইম ফাইন্যান্সের কোম্পানি সচিব নিয়োগ
- দেশের বাজারে ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার আজকের দাম
- উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণ করার পর বড় সুখবর নিয়ে আসছে তালিকাভুক্ত কোম্পানি
- বিকাশ-নগদ-রকেটসহ সব ব্যাংকে নতুন নির্দেশনা, কার্যকর ১ অক্টোবর
- অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের সহজ নিয়ম
- শেয়ারপ্রতি ১৮ টাকা বোনাস পাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা
- শেয়ারবাজারের সংকট কাটাতে আসছে যেসব নতুন উদ্যোগ
- ব্যাংকের শেয়ার কিনতে নতুন সীমা, বড় নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের
- এবার বাংলাদেশের সাথে বদলা নিচ্ছে ভারত
- খতিয়ানের মাধ্যমে জমির মালিকানা বের করার নিয়ম
- মাস্টাররোল কর্মীদের নিয়ে সরকারের নতুন পদক্ষেপ
- পে-স্কেলে বেতন পাবেন না যারা, প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট হলো তালিকা
- পেনশন গ্রাহকদের জন্য বড় ঘোষণা, যুক্ত হচ্ছে যেসব সুবিধা
- পেনশনভোগীদের জন্য সুখবর, নমিনি পাবেন বিশেষ সুবিধা
- ভারতের ছকে অকেজো বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্র
- রায় প্রত্যাখ্যানের পোস্ট, দুই আইনজীবীকে নিয়ে ট্রাইব্যুনালের বড় সিদ্ধান্ত





.jpg&w=50&h=35)







