ঢাকা, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
Sharenews24

নয় বছর বন্ধ কারখানা চালু করতে চায় বিডি ওয়েল্ডিং

২০২৫ নভেম্বর ৩০ ২২:০৬:২৬
নয় বছর বন্ধ কারখানা চালু করতে চায় বিডি ওয়েল্ডিং

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেক্ট্রোডস (বিডি ওয়েল্ডিং) দীর্ঘদিনের চরম আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে এবং বন্ধ থাকা কারখানাটি পুনরায় চালু করতে সক্রিয়ভাবে নতুন কৌশলগত বিনিয়োগকারী খুঁজছে। কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ দৃঢ় আশা প্রকাশ করেছে যে, নতুন বিনিয়োগকারী পেলে তারা কর্মীদের পুনরায় নিয়োগ দিতে, উৎপাদন কার্যক্রম স্থিতিশীল করতে এবং শেয়ারবাজারের কাছে বকেয়া তালিকাভুক্তি ফি কিস্তিতে পরিশোধ করতে সক্ষম হবে। কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

১৯৯৯ সালে তালিকাভুক্ত হওয়া বিডি ওয়েল্ডিং ২০১২ সাল পর্যন্ত নিয়মিতভাবে তাদের বার্ষিক তালিকাভুক্তি ফি পরিশোধ করলেও, ২০১৩ সাল থেকে ক্রমবর্ধমান পরিচালন ও আর্থিক সংকটের মুখে ফি প্রদান বন্ধ রাখে এবং বিপুল অঙ্কের বকেয়া তৈরি করে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা—২০১৭ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামের পুরোনো কারখানা বারবার বন্যা ও ভূমিধসের শিকার হয়, যেখানে ৫-৬ ফুট পানিতে কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির মারাত্মক ক্ষতি হয়। যদিও ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের কাছে সমস্ত সম্পদ বীমাকৃত ছিল, কোম্পানিটি দাবি প্রত্যাখ্যান করে। পরবর্তীতে বিডি ওয়েল্ডিং আদালত থেকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ পেলেও, বীমা কোম্পানি আপিল করায় মামলাটি এখনও ঝুলে আছে।

২০১৬ সাল থেকেই প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় একপর্যায়ে কারখানাটি নিলামে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিলাম প্রক্রিয়া স্থগিত করেন এবং পরবর্তীতে একটি ইজিএম-এর মাধ্যমে ব্যাংক দায় পরিশোধের জন্য ভবনের কাঠামো ও যন্ত্রপাতি বাদে শুধু কারখানার জমি বিক্রি করা হয়। এরপর কোম্পানির যন্ত্রপাতিগুলো ঢাকায় ধামরাইয়ে নতুন কেনা জমিতে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত তহবিলের অভাবে সেখানে কারখানা শেড তৈরি ও যন্ত্রপাতি পুনরায় স্থাপন করা সম্ভব না হওয়ায় উৎপাদন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত থাকে। এই সময়ে দুইজন অফিস কর্মী বাদে অন্য সকল কর্মীকে বেতনহীন ছুটিতে পাঠানো হয়।

এই দীর্ঘ আর্থিক সংকটের সময়টিতে অফিস ভাড়া, ইউটিলিটি বিল এবং ডিএসই, সিএসই ও সিডিবিএল-এর বার্ষিক ফি বাবদ মোটা অঙ্কের বকেয়া জমতে থাকে। আর্থিক চাপ চরম আকার ধারণ করলে ২০২১ সালে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) হস্তক্ষেপ করে দুজন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ করে এবং কোম্পানির সম্পদ বিক্রি বা হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরবর্তীতে আরও তিনজন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের মাধ্যমে পর্ষদ পুনর্গঠন করা হলে নতুন পর্ষদ চট্টগ্রামের সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় এবং প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে।

পুনর্গঠিত পর্ষদ ইতোমধ্যে ধামরাইয়ে থাকা অবশিষ্ট জমি ভাগ করে, তিনজন নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ করেছে এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ তিনজন অফিস কর্মীর বকেয়া বেতন পরিশোধ শুরু করেছে। তবে, কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘদিনের ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে ২০২৩ সালের ৩ জানুয়ারি মারা যান, যা কোম্পানির চ্যালেঞ্জ আরও বাড়িয়ে তোলে। নতুন পর্ষদ এখন কৌশলগত বিনিয়োগকারী খুঁজে বের করে দ্রুত উৎপাদন পুনরায় শুরু করা, কর্মীদের কাজে ফিরিয়ে আনা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দিচ্ছে। এছাড়া, নতুন বিনিয়োগকারী নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের কাছে বকেয়া তালিকাভুক্তি ফি এবং অন্যান্য পাওনা পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধও জানিয়েছে বিডি ওয়েল্ডিং।

সালাউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে