ঢাকা, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
Sharenews24

অজুর সময় কথা বললে অজু মাকরুহ হয়ে যায়?

২০২৫ নভেম্বর ৩০ ১৯:০৯:৩৫
অজুর সময় কথা বললে অজু মাকরুহ হয়ে যায়?

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইসলামে অজু শুধু নামাজের প্রস্তুতিই নয়; বরং এটি একটি বড় নিয়ামত। হাদিসে এসেছে, অজুর পানি ঝরার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ছোট ছোট গোনাহও ঝরে যায় (মুসলিম: ২৪৪)। তাই অজুকে বলা হয় পবিত্রতার চাবি। আবার আরেক হাদিসে বলা হয়েছে—অজু ছাড়া নামাজ হয় না, আর নামাজ জান্নাতের চাবি। অর্থাৎ অজু এমন এক ইবাদত যা মানুষকে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর উপযুক্ত করে তোলে।

প্রতিদিন অনেক মানুষ নামাজের আগে, কোরআন তিলাওয়াতের আগে বা পবিত্রতার উদ্দেশ্যে অজু করেন। তবে দেখা যায়, অজুর সময় কেউ কেউ কথা বলেন। অনেকের মধ্যে ধারণা আছে—অজুর সময় কথা বললে অজু মাকরুহ হয়ে যায়। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি সত্যিই শরিয়তসম্মত?

রাজধানীর জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ কালবেলাকে বলেন, অজুর সময় কথা বলা নাজায়েজ বা মাকরুহ— এমন ধারণা সঠিক নয়। তিনি পরিষ্কারভাবে জানান, মাঝখানে কথা বললে অজু নষ্ট হয়ে যায় বা মাকরুহ হয়ে যায়— এ বিশ্বাসের কোনো শরয়ি ভিত্তি নেই।

তিনি হাদিসের উদাহরণ দিয়ে বলেন—মুগিরা (রা.) বর্ণনা করেছেন, এক সফরে রাসুলুল্লাহ (সা.) অজু করছিলেন। মুগিরা (রা.) তাঁর মোজা খুলতে চাইলে নবীজি (সা.) বলেন, মোজা থাকুক, আমি পবিত্র অবস্থায় মোজা পরেছিলাম। এরপর তিনি মোজার ওপর মাসাহ করেন (বোখারি: ২০৬)। এ ঘটনাই প্রমাণ করে—অজুর সময় প্রয়োজনীয় কথা বলা বৈধ।

যোগ করে মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ বলেন, তবে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা এড়িয়ে চলাই উত্তম, যাতে কথা বলতে গিয়ে অজুর অঙ্গ শুকনো হয়ে না যায় এবং অজুর মাসনুন দোয়াগুলো পড়া বাদ না পড়ে।

ইসলামি গবেষণা পত্রিকা ‘মাসিক আল কাউসার’-এও বলা হয়েছে—অযথা কথা বলা অনুচিত, তবে কথা বললে অজু মাকরুহ হয় না।

উল্লেখযোগ্য দলিল:খুলাসাতুল ফাতাওয়া : ১/২৫,হালবাতুল মুজাল্লী : ১/৯৪,আসসেআয়া : ১/৮০

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর



রে