ঢাকা, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

সরকারি চাকরিতে বড় সুখবর: নতুন স্কেলে যা যা পাবেন

২০২৫ অক্টোবর ১১ ১১:০৩:১১
সরকারি চাকরিতে বড় সুখবর: নতুন স্কেলে যা যা পাবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই কাঠামো গেজেট আকারে প্রকাশ করে ২০২৬ সালের প্রথম দিকেই তা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে গঠিত হয়েছে একটি জাতীয় পে কমিশন, যার নেতৃত্বে আছেন সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান। কমিশন ডিসেম্বরের মধ্যেই সরকারের কাছে সুপারিশ পেশ করবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেলে শুধু বেতন নয়, চিকিৎসা, শিক্ষা, পদোন্নতি এবং অন্যান্য ভাতা ক্ষেত্রেও যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে চলেছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হবে, যাতে আগামী মার্চ-এপ্রিলে তা কার্যকর করা যায়।

নতুন কাঠামোতে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হবে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্য থাকবে বিশেষ প্রণোদনা ভাতা। কারণ, এসব খাতে তরুণদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় উদ্ভাবন ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি অবসরোত্তর সময়ের জন্যও সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে একজন কর্মচারী মাসে ১,৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান; সেটি বাড়তে পারে।

শিশুদের শিক্ষা ভাতাও বাড়ানোর কথা ভাবছে কমিশন, যাতে কর্মচারীরা সন্তানের শিক্ষাব্যয় বহনে সহায়তা পান। পাশাপাশি নতুন কাঠামোয় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ৮:১ থেকে ১০:১–এর মধ্যে রাখা হবে, যা আগের মতো ১০:১ অনুপাত হলেও কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে বেতন বৈষম্য কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বর্তমানে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বিষয়গুলো নিয়েও চলছে আলোচনা। কর্মচারী সংগঠনগুলো এগুলো পুনঃপ্রবর্তনের দাবি তুলেছে, যাতে পদোন্নতি না হলেও কর্মীরা নির্দিষ্ট সময় পর পর আর্থিক সুবিধা পান। তবে কমিশনের একাংশ মনে করছে, এগুলো বাতিল করে সহজ ও স্বচ্ছ পদোন্নতির সুযোগ তৈরি করলেই কাঠামো জটিল হবে না। ফলে, টাইম স্কেল না রেখে সরাসরি পদোন্নতির মাধ্যমে বেতন বৃদ্ধির মডেল প্রস্তাবিত হতে পারে।

গত ২৪ জুলাই গঠিত জাতীয় পে কমিশন ইতোমধ্যে তাদের প্রথম বৈঠক করেছে এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতি কর্মচারীর পরিবারে ৬ সদস্য ধরে ব্যয় বিশ্লেষণ করে বেতন কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। কর্মচারীদের মতামত জানাতে কমিশনের ওয়েবসাইট (paycommission2025.gov.bd)–এ ৩২টি প্রশ্নের ফর্ম দেওয়া হয়েছে, যেখানে ১৫ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত মতামত দেওয়া যাবে।

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ নিশ্চিত করেছেন, নতুন পে-স্কেল এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদেই গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে, পরবর্তী সরকারের জন্য অপেক্ষা করা হবে না। এজন্য চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটেই অর্থ বরাদ্দ রাখা হবে।

এদিকে, নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা চাইছেন, সর্বনিম্ন বেতন অন্তত ১৬-২০ হাজার টাকা বেসিক ধরা হোক এবং অনুপাত ৮:১ করা হোক, যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম সামাল দেওয়া যায়। অপরদিকে, উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মনে করেন, অনুপাত কমালে তাদের বেতন তুলনামূলকভাবে কমে যাবে, যা মেধাবীদের সরকারি চাকরি থেকে দূরে ঠেলে দিতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধুমাত্র বেতন বৃদ্ধি নয়, চিকিৎসা, শিক্ষা ভাতা ও অবসরোত্তর সুবিধাও বাড়ানো উচিত। তবে সতর্কতাও রয়েছে—এই নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের ব্যয় বাড়বে, তাই রাজস্ব আয় বাড়ানোর দিকেও নজর দিতে হবে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের নভেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ভাতা সংস্কার ও বেতন কাঠামো আধুনিকায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। চলতি বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ১০% বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৮৪ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে বেশি।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে