ঢাকা, রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫
Sharenews24

দিল্লির ফোন পেয়ে ঘাবড়ে যান জিএম কাদের

২০২৫ আগস্ট ৩১ ১১:২৬:৪৪
দিল্লির ফোন পেয়ে ঘাবড়ে যান জিএম কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: জিএম কাদের প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছেন যে ভারতের সঙ্গে তার অনেক কথা হয়েছে, তবে দিল্লির অনুমতি ছাড়া সেগুলো বলা যাবে না। এই বক্তব্য ইঙ্গিত করে যে জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ আসলে ঢাকায় নয়, দিল্লিতেই।

দীর্ঘ এক যুগ ধরে জাতীয় পার্টি শেখ হাসিনার ছত্রছায়ায় সংসদে গৃহপালিত বিরোধী দল হিসেবে সুবিধা ভোগ করেছে। এর মধ্যে ছিল মন্ত্রীত্ব, আসন ভাগাভাগি, এবং পাতানো নির্বাচনে অংশগ্রহণ। বিগত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ গুম, খুন, লুটপাট ও অর্থপাচারের সাথে জড়িত থাকলেও দিল্লির আশীর্বাদে তারা টিকে ছিল। অবশেষে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।

আওয়ামী লীগ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায়, দিল্লি এখন নতুন কৌশলে জাতীয় পার্টিকে সামনে আনার চেষ্টা করছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য দলটির ভেতরে কৃত্রিম বিরোধ তৈরি করা হচ্ছে। আসন্ন কাউন্সিলে ভারতের পছন্দের ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও রুহুল আমিন হাওলাদারকে নেতৃত্বে বসানোর পরিকল্পনা চলছে। এতে বোঝা যায় যে, ক্ষমতার লাটাই থাকবে সাউথ ব্লকের হাতে এবং জাতীয় পার্টি কেবল একটি বাহক।

নেটিজেনরা বলছেন যে, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় এবার জাতীয় পার্টিকে ব্যবহার করে ভারত নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে চাইছে। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশের রাজনীতি এখনও দিল্লির রিমোট কন্ট্রোলে।

দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও দিল্লির প্রভাবের দিকেই ইঙ্গিত করছে। উদাহরণস্বরূপ, প্রগতি ম্যাগাজিনের সম্পাদক এবং এরশাদের আত্মীয় সাকিব রহমানকে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ভারতের আপত্তিতে, কারণ তিনি পাকিস্তান হাই কমিশনের এক নৈশভোজে যোগ দিয়েছিলেন। এমনকি ২০২৩ সালে জিএম কাদের তাকে সম্পাদক করতে চাইলে, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিল্লির চাপে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল হয়।

বাস্তবে জাতীয় পার্টির কোন শক্তিশালী গণভিত্তি নেই। রংপুরের মতো ঘাঁটিতেও জয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে দিল্লির কৌশল হলো, আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যবাহী ভোটারদের লাঙলে (জাতীয় পার্টির প্রতীক) ভোট দিতে প্রভাবিত করা, যাতে জাতীয় পার্টি কয়েকটি আসন পেতে পারে।

জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে যে, আওয়ামী লীগের 'বি টিম' হিসেবে পরিচিত একটি বিদেশ-নির্ভর দলকে সরকার কেন নিষিদ্ধ করছে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনার ঝড় বইছে এবং প্রশ্ন উঠেছে যে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে দিল্লির দাদাগিরি কি এবার জাতীয় পার্টির হাত ধরে ফিরে আসছে।

জাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে