×
ঢাকা, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ারবাজারে খাতভিত্তিক পালাবদল, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের ভরসা কোথায়?

২০২৬ অক্টোবর ৩১ ১২:৫০:৩৯
শেয়ারবাজারে খাতভিত্তিক পালাবদল, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের ভরসা কোথায়?

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে খাতভিত্তিক লেনদেন ও শেয়ারদরে দেখা গেছে বিপরীতমুখী প্রবণতা। কোনো খাতে লেনদেন বাড়লেও কমেছে শেয়ারের দাম, আবার কোনো খাতে তুলনামূলক কম লেনদেনের মধ্যেও এসেছে ইতিবাচক রিটার্ন। বিশেষ করে পাট, সিমেন্ট ও সিরামিক খাতে বড় ধরনের দরপতনের বিপরীতে সেবা ও আবাসন খাতে ইতিবাচক প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে। একই সঙ্গে টেক্সটাইল খাতে লেনদেনের বড় অংশ থাকলেও কমেছে কেনাবেচার গতি। ফলে বাজারে কোন খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে, আর কোন খাত থেকে তাঁরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা।

প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ২৫-২৯ অক্টোবর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহজুড়ে সেবা ও আবাসন খাত সবচেয়ে ভালো রিটার্ন দিয়েছে। এখাতে সাপ্তাহিক রিটার্ন ছিল ২ দশমিক ২৪ শতাংশ। শুধু শেয়ারদরেই ইতিবাচক প্রবণতা নয়, এখাতে লেনদেনেও বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ১৪০ দশমিক ৯২ শতাংশ। আগের সপ্তাহে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল, সেখানে আলোচিত সপ্তাহে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৩১ লাখ টাকায়। এখাতের চারটি কোম্পানির মধ্যে তিনটির শেয়ারদর বেড়েছে এবং একটির কমেছে।

অন্যদিকে, পাট খাতের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। আলোচিত সপ্তাহে এখাতে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে ৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ, যা সব খাতের মধ্যে সর্বোচ্চ দরপতন। সিমেন্ট খাতে দরপতন হয়েছে ৫ দশমিক ১০ শতাংশ এবং সিরামিক খাতে ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ। পাট খাতের তিনটি কোম্পানির সবগুলোর শেয়ারদর কমেছে। সিমেন্ট খাতের সাতটির মধ্যে ছয়টি এবং সিরামিক খাতের পাঁচটির মধ্যে চারটি কোম্পানির শেয়ারদর হারিয়েছে। অর্থাৎ এসব খাতে বিনিয়োগকারীদের জন্য সপ্তাহটি ছিল বেশ চাপের।

বাজারের বড় অংশজুড়ে লেনদেন থাকলেও টেক্সটাইল খাতেও দেখা গেছে দুর্বলতা। ডিএসইর মোট দৈনিক গড় লেনদেনের ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ এসেছে এ খাত থেকে। তবে আগের সপ্তাহের তুলনায় খাতটিতে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ১৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ৯২ কোটি ১৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হলেও আলোচিত সপ্তাহে তা নেমে এসেছে ৭৫ কোটি ৫ লাখ টাকায়। এখাতের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে ৩৩টির শেয়ারদর কমেছে, বেড়েছে ১৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল আটটির। অর্থাৎ লেনদেনের বড় অংশ দখলে থাকলেও টেক্সটাইল খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারে ছিল দরপতনের চাপ।

এদিকে টেলিযোগাযোগ ও জ্বালানি-বিদ্যুৎ খাতে লেনদেনের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় টেলিযোগাযোগ খাতে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ৬৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বেড়েছে ৮৮ দশমিক ২২ শতাংশ। তবে এসব খাতে লেনদেন বাড়লেও তার অর্থ এই নয় যে সব কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। বরং সামগ্রিক বাজারের চিত্র বলছে, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ও শেয়ারদরের গতিপ্রকৃতি সব খাতে একই রকম নয়।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, আলোচিত সপ্তাহে ডিএসইতে খাতভিত্তিক বিনিয়োগ প্রবণতায় বড় ধরনের পার্থক্য ফুটে উঠেছে। একদিকে সেবা ও আবাসন খাতে লেনদেন ও রিটার্ন দুটোই বেড়েছে, অন্যদিকে পাট, সিমেন্ট ও সিরামিক খাতে দরপতন এবং টেক্সটাইল খাতে লেনদেন কমেছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, বিনিয়োগকারীরা কি নির্দিষ্ট কিছু খাত থেকে সরে গিয়ে নতুন খাতে ঝুঁকছেন, নাকি এটি সাময়িক বাজার পরিস্থিতির প্রতিফলন? পরবর্তী সপ্তাহের লেনদেন ও খাতভিত্তিক রিটার্নই হয়তো সেই প্রশ্নের উত্তর দেবে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে