×
ঢাকা, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

নিজের চাচা শ্বশুরকে যা বললেন ফাহাম আব্দুস সালাম

২০২৬ অক্টোবর ৩১ ১১:২৭:৩৫
নিজের চাচা শ্বশুরকে যা বললেন ফাহাম আব্দুস সালাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিশ্লেষণমূলক পোস্ট দিয়েছেন বিশিষ্ট লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফাহাম আব্দুস সালাম। পোস্টে তিনি নির্বাচনে পরাজিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনকে তাঁর রাজনৈতিক সাহসের জন্য অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি দলটির উগ্র অনলাইন প্রচার ও নির্বাচনপরবর্তী অভিযোগের কঠোর সমালোচনা করেছেন।

ফাহাম আব্দুস সালাম তাঁর ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, বিগত নির্বাচনে প্রায় এক লাখ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার পরও পুনরায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য যে মানসিক দৃঢ়তা প্রয়োজন, তা দেলোয়ার হোসেন দেখিয়েছেন। বাংলাদেশে রাজনীতিতে টিকে থাকার জন্য এ ধরনের ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সাথে তিনি বিজয়ী প্রার্থী মির্জা ফয়সাল আমিন এবং একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য উপনির্বাচন উপহার দেওয়ায় সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জানান। তিনি মন্তব্য করেন, নির্বাচন সামান্য ব্যবধানে হারলেও ক্ষতি ছিল না, কিন্তু নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ হলে মারাত্মক পরিণতি হতো। এই গণতান্ত্রিক শুভবুদ্ধি বজায় থাকাকে তিনি '৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের বাই-প্রোডাক্ট' বলে অভিহিত করেন।

পোস্টে ফাহাম আব্দুস সালাম বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যেকোনো নির্বাচন এলেই জামায়াত সমর্থকরা এমন এক আবহ তৈরি করেন যেন জয় নিশ্চিত—"এবার আর কোনো মিস নেই", "খাপে খাপে মমতাজের বাপ"—এমন স্লোগান তুলে মাঠ গরম করা হয়। অথচ নির্বাচনে ফল বিপক্ষে গেলেই কোনো প্রমাণ ছাড়া কারচুপির অভিযোগ তোলা হয়। বিশ্লেষক মনে করেন, এ ধরনের আচরণ হাস্যকর এবং এর ফলে সাধারণ ভোটারদের কাছে দলের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয় ও তারা জনগণের চোখে জোকারে পরিণত হন।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিরোধীদের দাবি অনুযায়ী বিএনপি যদি বর্তমানে স্মরণকালের সবচেয়ে অজনপ্রিয় দলে পরিণত হয়ে থাকে, তবে জামায়াত প্রার্থীর ভোট বাড়ার বদলে কমল কেন? যেখানে দেলোয়ার হোসেন আগে ১ লাখ ২০ হাজার ভোট পেয়েছিলেন, সেখানে এবার তিনি পেয়েছেন ৯৪ হাজার ভোট।

তিনি যুক্তি দেখান, সামান্য দুই-তিন হাজার ভোটের ব্যবধান হয়তো কোনো কারচুপির প্রভাবে হতে পারে, কিন্তু লাখের অধিক ভোটের ব্যবধান কোনোভাবেই ভোটিং কারচুপি বা রিগিংয়ের মাধ্যমে হওয়া সম্ভব নয়। তাই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের মতো বিভ্রান্তিকর পথে না হাঁটার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে জটিল উল্লেখ করে ফাহাম আব্দুস সালাম বলেন, দেশে জামায়াতে ইসলামী বা বিএনপি—প্রত্যেক রাজনৈতিক শক্তিরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই ভবিষ্যতে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে রাজনৈতিক সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরি করাই সবচেয়ে জরুরি।তিনি জামায়াত সমর্থকদের বাস্তবতায় ফিরে আসার পরামর্শ দিয়ে বলেন, কোনো একটি নির্বাচনে হার মানেই পৃথিবীর শেষ নয়। গণতন্ত্রে জয়-পরাজয় থাকবেই; তাই জয়ে অতি-উল্লাস কিংবা পরাজয়ে চরম হতাশায় নিমজ্জিত হওয়ার কিছু নেই। রাজনৈতিক কাদা-ছোড়াছুড়ির চেয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত।

জাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে