×
ঢাকা, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

৭ বছর মেয়াদি বন্ড, মূলধন সংগ্রহ ৪০০ কোটি টাকা

২০২৬ অক্টোবর ৩১ ১১:২১:২১
৭ বছর মেয়াদি বন্ড, মূলধন সংগ্রহ ৪০০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারে করপোরেট বন্ডের পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের মূলধন ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে ৪০০ কোটি টাকার দ্বিতীয় সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যু করছে মেঘনা ব্যাংক পিএলসি। সাত বছর মেয়াদি এই বন্ড ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন পেয়েছে। বন্ডটির বার্ষিক কুপন রেট নির্ধারণ করা হয়েছে পরিবর্তনশীল হারে। গত ৩০ সেপ্টেম্বরের হিসাবে এর কুপন রেট দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ০৫ শতাংশ।

ব্যাংকটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ টায়ার-২ মূলধন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর ফলে ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি ঋণ বিতরণ, বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

মেঘনা ব্যাংকের দ্বিতীয় সাব-অর্ডিনেটেড বন্ডের মোট আকার ৪০০ কোটি টাকা। সাত বছর মেয়াদি এই বন্ডটি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ইস্যু করা হবে। প্রযোজ্য আইন ও নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এতে বিনিয়োগ করতে পারবেন।

ব্যাংকটির মতে, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত মূলধন সংরক্ষণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা পরিপালন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন বন্ড ইস্যুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বন্ড থেকে পাওয়া অর্থ ব্যাংকের মূলধন কাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে শিল্পায়ন, উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং বিদ্যমান ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণেও অর্থায়নের সুযোগ বাড়তে পারে। এর ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।

বন্ডটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর পরিবর্তনশীল কুপন রেট। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সুদের হারের পরিবর্তে বাজারের রেফারেন্স রেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বন্ডটির মুনাফার হার পরিবর্তিত হবে।

মেঘনা ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ছয় মাস মেয়াদি স্থায়ী আমানতের সর্বোচ্চ সুদের হারের গড়ের ভিত্তিতে বন্ডটির রেফারেন্স রেট নির্ধারণ করা হয়। এর সঙ্গে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ মার্জিন যোগ করে চূড়ান্ত কুপন রেট নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বন্ডটির কুপন রেট ছিল ১২ দশমিক ০৫ শতাংশ। এর মধ্যে রেফারেন্স রেট ৯ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং নির্ধারিত মার্জিন ৩ শতাংশ।অর্থাৎ রেফারেন্স রেট বাড়লে ভবিষ্যতে বন্ডটির কুপন রেটও বাড়তে পারে। আবার রেফারেন্স রেট কমে গেলে কুপন রেট কমার সম্ভাবনাও থাকবে।

মেঘনা ব্যাংকের এই বন্ডের প্রতিটি ইউনিটের অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ টাকা। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ইস্যু করা হলেও পরবর্তী সময়ে বন্ডটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল মার্কেটে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তালিকাভুক্তির পর বিনিয়োগকারীরা স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বন্ডটি কেনাবেচার সুযোগ পেতে পারেন। এতে বিনিয়োগের তারল্য বাড়ার পাশাপাশি দেশের পুঁজিবাজারে বিকল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ব্যাংকটির বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, প্রযোজ্য আয়কর আইন ও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা এ বন্ডে বিনিয়োগের বিপরীতে কর রেয়াতের সুবিধা পেতে পারেন। এ ছাড়া ব্যাংকটির দাবি অনুযায়ী, বন্ডটিতে আবগারি শুল্ক নেই এবং বিনিয়োগের জন্য পৃথক কোনো সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

মেঘনা ব্যাংকের দাবি, প্রচলিত সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ও ডিপিএসের তুলনায় এই বন্ডে বেশি মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, বন্ডটির বার্ষিক কুপন রেট ছিল ১২ দশমিক ০৫ শতাংশ। ব্যাংকটির উল্লেখ করা মেয়াদি আমানতের হারের তুলনায় এই হার ৩ শতাংশ বেশি।

তবে বিনিয়োগকারীদের মনে রাখতে হবে, এটি পরিবর্তনশীল কুপন রেটের বন্ড। ফলে বর্তমান ১২.০৫ শতাংশ হার পুরো সাত বছর অপরিবর্তিত থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এ ছাড়া সাব-অর্ডিনেটেড বন্ডের ক্ষেত্রে ঋণ পরিশোধের অগ্রাধিকারের বিষয়টিও বিনিয়োগের আগে বিবেচনা করা জরুরি।

বন্ডটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ছয় মাস অন্তর কুপন আয় পাওয়ার সুযোগ। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা বছরে দুইবার নির্ধারিত হারে মুনাফা পাবেন।

অন্যদিকে, বন্ডটির মূলধন পরিশোধ শুরু হবে তৃতীয় বছর শেষে। এরপর মেয়াদের শেষ পাঁচ বছরে প্রতিবছর মূল বিনিয়োগের ২০ শতাংশ করে ফেরত দেওয়া হবে।এভাবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ধাপে ধাপে বিনিয়োগকারীদের মূলধন পরিশোধ করা হবে।

মেঘনা ব্যাংকের দ্বিতীয় সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর উদ্যোগ দেশের করপোরেট বন্ড বাজারের বিকাশেও ভূমিকা রাখতে পারে। ব্যাংকটির জন্য এটি মূলধন সংগ্রহ ও ব্যবসায়িক সক্ষমতা বাড়ানোর একটি মাধ্যম। অন্যদিকে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি প্রচলিত ব্যাংক আমানত ও অন্যান্য বিনিয়োগ মাধ্যমের বাইরে একটি বিকল্প সুযোগ।

সব মিলিয়ে ৪০০ কোটি টাকার এই বন্ডের মাধ্যমে মেঘনা ব্যাংক একদিকে নিজেদের মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করতে চায়, অন্যদিকে পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে চায়। তবে পরিবর্তনশীল কুপন রেট, বন্ডের মেয়াদ, মূলধন ফেরতের সময়সূচি এবং সাব-অর্ডিনেটেড বন্ডের ঝুঁকি বিবেচনা করেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

জাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে