×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

২৫০ কোটি টাকা তুলতে সিঙ্গারের নতুন পরিকল্পনা

২০২৬ অক্টোবর ২৭ ২০:৩৮:৫৫
২৫০ কোটি টাকা তুলতে সিঙ্গারের নতুন পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঋণের বোঝা কমানো ও চলতি মূলধনের চাহিদা মেটাতে শেয়ারবাজার থেকে সর্বোচ্চ ২৫০ কোটি টাকা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে ইলেকট্রনিক পণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড। এ লক্ষ্যে কোম্পানিটি পারপেচুয়াল, নন-কিউমুলেটিভ, নন-কনভার্টিবল ও নন-ভোটিং প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দেওয়া এক ঘোষণায় কোম্পানিটি এ তথ্য জানিয়েছে।

ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে সর্বোচ্চ ২৫ কোটি প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু করা হবে। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে কোম্পানির স্পন্সর শেয়ারহোল্ডারদের অনুকূলে এসব শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২৫০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে বিদ্যমান ঋণ পুনঃঅর্থায়ন, ঋণের বোঝা কমানো এবং চলতি মূলধনের প্রয়োজন মেটানো হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে কোম্পানির আর্থিক ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রেফারেন্স শেয়ারগুলো হবে পারপেচুয়াল বা স্থায়ী মেয়াদের। অর্থাৎ, এসব শেয়ারের নির্দিষ্ট মেয়াদপূর্তির তারিখ থাকবে না এবং শেয়ারহোল্ডাররা নির্ধারিত মেয়াদ শেষে কোম্পানির কাছে শেয়ার ফেরত দিয়ে অর্থ দাবি করতে পারবেন না।

এ ছাড়া শেয়ারগুলো নন-কিউমুলেটিভ হওয়ায় কোনো অর্থবছরে ডিভিডেন্ড ঘোষণা না করা হলে তা পরবর্তী বছরের জন্য জমা থাকবে না। পরিচালনা পর্ষদের বিবেচনা ও প্রযোজ্য অনুমোদন অনুযায়ী ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হলে তবেই তা পরিশোধ করা হবে। শেয়ারগুলো নন-কনভার্টিবল হওয়ায় সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরের সুযোগও থাকবে না। একই সঙ্গে এসব শেয়ারের বিপরীতে ভোটাধিকার থাকবে না।

প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর পাশাপাশি কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন বাড়ানোর প্রস্তাবও করেছে পরিচালনা পর্ষদ। বর্তমানে সিঙ্গার বাংলাদেশের অনুমোদিত মূলধন ২৫০ কোটি টাকা। এটি দ্বিগুণ করে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

আগামী ১৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব দুটি উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন হবে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া সাপেক্ষে প্রস্তাবগুলো কার্যকর হবে।

এদিকে, কোম্পানিটির আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের লোকসান। পৃথক এক ঘোষণায় সিঙ্গার বাংলাদেশ জানিয়েছে, এ সময়ে তাদের নিট লোকসান হয়েছে ৭৭ কোটি টাকা।

প্রান্তিক লোকসানের খবর প্রকাশের পর মঙ্গলবার ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারের দামে উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। দিনটিতে সিঙ্গার বাংলাদেশের শেয়ারের দাম ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ কমে ৭১ টাকায় নেমে আসে।

ঋণ পুনঃঅর্থায়ন ও চলতি মূলধনের চাহিদা মেটাতে প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর এই উদ্যোগ কোম্পানিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর আর্থিক প্রভাব নির্ভর করবে ঋণ ব্যবস্থাপনা, ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং প্রেফারেন্স শেয়ারের ডিভিডেন্ড পরিশোধের শর্তের ওপর।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর

উ
প
রে