×
ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

সপ্তাহজুড়ে শেয়ারবাজারে টানাপোড়েন, সূচক ও লেনদেনে কী বার্তা

২০২৬ অক্টোবর ২৩ ২১:৫১:২৫
সপ্তাহজুড়ে শেয়ারবাজারে টানাপোড়েন, সূচক ও লেনদেনে কী বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বিদায়ী সপ্তাহে প্রধান সূচকে বড় পরিবর্তন না এলেও বিভিন্ন সূচকে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। সপ্তাহ শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৫০ দশমিক ৬৩ পয়েন্টে। আগের সপ্তাহে সূচকটির অবস্থান ছিল ৫ হাজার ৪৫২ দশমিক ০৬ পয়েন্ট। সে হিসাবে সপ্তাহের ব্যবধানে সূচক কমেছে ১ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ০৩ শতাংশ।

অন্যদিকে, নির্বাচিত ৩০টি কোম্পানির শেয়ার নিয়ে গঠিত ডিএস৩০ সূচক বেড়েছে। বিদায়ী সপ্তাহ শেষে সূচকটি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১০৩ দশমিক ৪০ পয়েন্টে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ২ হাজার ৯৬ দশমিক ৫১ পয়েন্ট। অর্থাৎ, ডিএস৩০ সূচক বেড়েছে ৬ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ। তবে শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ৭ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭০ দশমিক ৪০ পয়েন্টে নেমেছে। ডিএসইর এসএমই সূচকও ৩ দশমিক ২২ পয়েন্ট কমেছে।

সূচকের এই মিশ্র চিত্রের পাশাপাশি বাজারমূলধনেও সামান্য পতন হয়েছে। ডিএসইর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদায়ী সপ্তাহ শেষে বাজারের মোট মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৮১ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহে তা ছিল প্রায় ৬ লাখ ৮৪ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারমূলধন কমেছে শূন্য দশমিক ৩৭ শতাংশ। ডলারে হিসাবেও বাজারমূলধন শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ কমে ৫৫ হাজার ৯১ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিদায়ী সপ্তাহে শেয়ারবাজারে দরপতনের তুলনায় দরবৃদ্ধি পাওয়া শেয়ারের সংখ্যা কম থাকলেও বেশ কিছু শেয়ারে ইতিবাচক প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের জন্য আশাব্যঞ্জক দিক তুলে ধরেছে। ডিএসইর হিসাবে, সপ্তাহজুড়ে ১২৬টি শেয়ারের দর বেড়েছে, ৪২টির দর অপরিবর্তিত ছিল এবং ২১৩টির দর কমেছে। এ ছাড়া ৩০টি শেয়ারে কোনো লেনদেন হয়নি।

সামগ্রিকভাবে দরপতন হওয়া শেয়ারের সংখ্যা বেশি থাকলেও ১২৬টি শেয়ারের দরবৃদ্ধি প্রমাণ করে, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বাজারের একটি অংশে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বজায় ছিল। নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির শেয়ারে এই ইতিবাচক প্রবণতা বাজারের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি করেছে। পাশাপাশি কোম্পানির মৌলভিত্তি, আর্থিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার গুরুত্বও সামনে এসেছে।

অন্যদিকে, সপ্তাহজুড়ে বাজারের সামগ্রিক গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করতে সূচকের ওঠানামার পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণ, বাজারমূলধনের পরিবর্তন এবং শেয়ারের দরবৃদ্ধি ও দরপতনের চিত্র একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কারণ, প্রধান সূচকের সামান্য পরিবর্তন দিয়েই পুরো বাজারের অবস্থা নির্ধারণ করা যায় না; বিভিন্ন কোম্পানি ও খাতের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও বাজারের প্রকৃত পরিস্থিতি বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেসব শেয়ারে দরবৃদ্ধি হয়েছে, সেগুলোর লেনদেনের ধারাবাহিকতা ও মূল্যগত প্রবণতা পর্যালোচনা করলে বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।

একই সঙ্গে লেনদেনের গতি বাড়া, ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারে আগ্রহ তৈরি হওয়া এবং বাজারে আস্থার পরিবেশ জোরদার হওয়া ভবিষ্যতে ইতিবাচক প্রবণতা গড়ে ওঠার সহায়ক হতে পারে। তবে এ সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিতে ধারাবাহিক লেনদেন, স্বচ্ছতা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে