×
ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ঐতিহাসিক ঘোষণা, অবশেষে অপেক্ষার অবসান!

২০২৬ অক্টোবর ২৩ ২০:১২:২৩
ঐতিহাসিক ঘোষণা, অবশেষে অপেক্ষার অবসান!

নিজস্ব প্রতিবেদক: আমেরিকার অস্ত্রাগারের অন্যতম শক্তিশালী এবং অতি গোপন 'বাংকার ব্লাস্টার' বোমা জিবিইউ-৫৭ (GBU-57)-এর রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে নিজেদের সংস্করণ তৈরির দাবি করেছে ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর ডেপুটি কোঅর্ডিনেটর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাগদির এমন ঘোষণায় পেন্টাগন ও ইসরায়েলি সামরিক মহলে চরম উদ্বেগ ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জিবিইউ-৫৭ বা ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর (MOP) হলো আমেরিকার একটি বিশেষায়িত নন-নিউক্লিয়ার শক্তিশালী অস্ত্র। প্রায় ১৩ থেকে ১৪ টন ওজনের এই দানবীয় বোমা বহনের জন্য আমেরিকার বি-২ স্পিরিট স্টিলথ বোম্বার ব্যবহার করা হয়। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এটি মাটির উপরে বিস্ফোরিত না হয়ে বিশেষ স্টিল অ্যালয় আবরণের মাধ্যমে পাথর ও কংক্রিট ভেদ করে মাটির প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ ফুট গভীরে গিয়ে দুই ধাপে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটায়। অত্যন্ত সংবেদনশীল পারমাণবিক স্থাপনা ও ভূগর্ভস্থ সামরিক বাংকার ধ্বংস করতেই কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে আমেরিকা এটি তৈরি করেছিল।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সাম্প্রতিক এক সংঘাত চলাকালে ইরানের 'ফোরদো' পারমাণবিক স্থাপনা বা ভূগর্ভস্থ সংবেদনশীল স্থাপনায় হামলা চালাতে আমেরিকা এই বাংকার ব্লাস্টার বোমা ব্যবহার করে। তবে নিক্ষেপ করা বোমাগুলোর মধ্যে অন্তত দুটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় মাটিতে গেঁথে যায়। পরবর্তীতে ইরানি বিজ্ঞানীরা সেগুলো উদ্ধার করে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে এর ধাতুবিদ্যা (অ্যালয় স্টিল), স্মার্ট ফিউজিং ও নেভিগেশন সিস্টেমের অ্যালগরিদম সফলভাবে ডিকোড করে নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরি করে।

ইরানের কাছে আমেরিকার মতো ভারী বি-২ বোমারু বিমান না থাকলেও তারা এই বাংকার ব্লাস্টার প্রযুক্তিকে মিনিয়েচারাইজ বা ক্ষুদ্র সংস্করণে রূপান্তর করেছে। দেশটি তাদের নিজস্ব ব্যালিস্টিক ও শব্দের চেয়ে দ্রুতগামী হাইপারসনিক মিসাইলের ওয়ারহেডে এই প্রযুক্তি যুক্ত করছে। এর ফলে এসব ক্ষেপণাস্ত্র তীব্র গতিতে আঘাত হেনে মাটির অন্তত ১০০ ফুট গভীরে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম হবে।

ইসরায়েলের সামরিক সদর দপ্তর, মোসাদের আন্ডারগ্রাউন্ড হেডকোয়ার্টার এবং সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষায় ব্যবহৃত বেশিরভাগ আধুনিক বাংকার মাটির প্রায় ৫০ ফুট গভীরে অবস্থিত। ইরানের হাতে বাংকার ভেদকারী এই প্রযুক্তির ওয়ারহেড চলে আসায় ইসরায়েলের এসব ভূগর্ভস্থ আশ্রয়স্থল এখন সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পেন্টাগন ও তেল আবিব এটিকে তাদের নিজেদের প্রযুক্তির এক চরম বুমেরাং হিসেবে দেখছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক সামরিক সমীকরণকে বদলে দিতে পারে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে