×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সুইটিকে নিয়ে মুখ খুললেন নজরুলের বাবা

২০২৬ অক্টোবর ২০ ১৬:৩১:১৫
সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সুইটিকে নিয়ে মুখ খুললেন নজরুলের বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাঁদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিলেও নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে বিয়ে করেননি। সুইটি আক্তারকেও তাঁরা চেনেন না বলে দাবি করেছেন তিনি।

কালবেলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নজরুল ইসলামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে। অন্যদিকে, সুইটি আক্তারের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নে।

নজরুল ও সুইটির সম্পর্কের বিষয়ে আব্দুল বাছির গণমাধ্যমকে বলেন, কলেজে পড়ার সময় পরিবারের দায়িত্ব নিতে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, নজরুল বিয়ে করেননি এবং সুইটি তাঁর ছেলের স্ত্রী নন। তবে দুজন একই জায়গায় কাজ করতেন বলে তিনি শুনেছেন।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাবার সঙ্গে শেষ কথা

আব্দুল বাছির জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে ছেলের সঙ্গে তাঁর শেষবার ফোনে কথা হয়েছিল। নজরুল তাঁকে জানিয়েছিলেন, তিনি সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। তবে কী ধরনের সমস্যায় পড়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।

নজরুলের বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন বছর তিন মাস সৌদি আরবের কারাগারে ছিলেন তাঁর ছেলে। গত রোববার ফোনে কথা হওয়ার কয়েক দিন পর গণমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানতে পারেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সৌদি আরবে যাওয়ার প্রায় এক মাস পর মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ পেয়েছিলেন নজরুল। তবে সাত-আট মাস পর থেকে পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে কারাগার থেকে ফোন করে তিনি বন্দি থাকার কথা জানান। কিন্তু কী অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয়েছিল, সে বিষয়ে পরিবারকে বিস্তারিত কিছু বলেননি।

আব্দুল বাছিরের অভিযোগ, ছেলে কারাগারে থাকার সময় তিনি জানতে চেয়েছিলেন, বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কি না। নজরুল জানিয়েছিলেন, কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।

সুইটির পরিচয় শনাক্ত, মৃত্যুর বিষয়ে অনিশ্চয়তা

এদিকে, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বহির্গমন ছাড়পত্র এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের ভিত্তিতে সুইটি আক্তারের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সৌদি আরবে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশিত হওয়ার পরও পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি। সুইটির বাবা ফজল ও মা জহুরা বেগম জানিয়েছেন, মেয়ের মৃত্যুর বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি। তাঁদের দাবি, মেয়ে মারা গিয়ে থাকলে তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে সরকার যেন সহযোগিতা করে।

মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুর জানান, সুইটি আক্তারের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি।

সুইটির বোনের স্বামী আবদুল বারেক আনসার বাহিনীর সদস্য হিসেবে পূজার দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁকে ডেকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সুইটির ছবি দেখানো হলে তিনি ওই নারীকে নিজের শ্যালিকা হিসেবে শনাক্ত করেন। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি তিনিও নিশ্চিত করতে পারেননি।

এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সৌদি আরবে সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা সম্পর্কে তাঁর কাছে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য আসেনি।

সুইটি আক্তারের মৃত্যুর বিষয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিশ্চিত তথ্য না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে