×
ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

সোনা নয়, চাঁদের সবচেয়ে দামি সম্পদ যা

২০২৬ অক্টোবর ১৮ ২২:০১:৩৮
সোনা নয়, চাঁদের সবচেয়ে দামি সম্পদ যা

নিজস্ব প্রতিবেদক: মহাকাশ গবেষণায় নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অতীতের ‘মুন রেস’-এর লক্ষ্য ছিল মূলত শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রযুক্তি প্রদর্শন, কিন্তু বর্তমানের ‘মুন রেস ২.০’-এর মূল লক্ষ্য হলো মহাকাশে স্থায়ী বসতি গড়া এবং প্রয়োজনীয় সম্পদের অনুসন্ধান। এই দৌড়ে এখন কেবল মহাকাশে পৌঁছানো নয়, বরং চাঁদে স্থায়ী অবকাঠামো তৈরিতে মনোনিবেশ করছে চীন ও আমেরিকা।

চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবস্থিত ‘পার্মানেন্টলি শ্যাডো বা ছায়াময়’ গর্তগুলোতে বিপুল পরিমাণ পানি বা বরফ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পানি কেবল মহাকাশচারীদের পানের জন্য নয়, বরং একে ভেঙে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন তৈরি করা সম্ভব। হাইড্রোজেন ব্যবহৃত হতে পারে জ্বালানি হিসেবে এবং অক্সিজেন ব্যবহার করা হবে শ্বাস-প্রশ্বাসের কাজে। তাই চাঁদের এই বরফ এখন মহাকাশ গবেষণার ‘র-ম্যাটেরিয়াল’ বা কাঁচামাল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যে দেশ আগে চাঁদে এই স্থায়ী অবকাঠামো ও সম্পদ উত্তোলনের ব্যবস্থা করতে পারবে, তারাই ভবিষ্যতের মহাকাশ অর্থনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করবে।

চীন বনাম আমেরিকা:

চীনের কৌশল: চীন তাদের 'চেং ই' (Chang'e) প্রোগ্রামের মাধ্যমে একের পর এক সাফল্য অর্জন করেছে। তাদের লক্ষ্য—চাঁদের দক্ষিণ মেরুর পরিবেশ ও ভূ-প্রকৃতি নিয়ে গবেষণা করা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক লুনার রিসার্চ স্টেশন তৈরি করা।

আমেরিকার কৌশল: নাসা তাদের ‘আর্টেমিস’ (Artemis) কর্মসূচির মাধ্যমে চাঁদে পুনরায় মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। নাসা এখন একা সবকিছু না করে স্পেসএক্স (SpaceX), ব্লু অরিজিনের মতো বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে যুক্ত করে একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছে।

বর্তমান এই প্রতিযোগিতায় কে আগে চাঁদে পৌঁছাবে তা নিয়ে এখন আর তেমন মাথাব্যথা নেই, বরং আসল প্রতিযোগিতাটি হলো ‘লুনার রিয়েল এস্টেট’ বা চাঁদের জমি দখল করা। যারা চাঁদের দক্ষিণ মেরুর মতো দুর্গম স্থানে আগে স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করতে পারবে, তারাই ভবিষ্যতের মহাকাশ যুগের মোড়ল হতে পারবে।

উপস্থাপক জানিয়েছেন, চাঁদের দক্ষিণ মেরু এখন বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর কাছে এক নতুন রণক্ষেত্র। আমেরিকা ও চীনের এই লড়াইটি এখন আর শুধুমাত্র বিজ্ঞান বা প্রযুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন ভূ-রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মহাকাশ গবেষণার এই নতুন যুগে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশগুলোও কীভাবে এই পরিবর্তনের সাথে নিজেদের যুক্ত করতে পারে, তা এখন দেখার বিষয়। তবে একথা নিশ্চিত যে, ভবিষ্যতে মানবজাতির নতুন ঠিকানা হিসেবে চাঁদের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে, আর এই প্রতিযোগিতার ফলাফলই নির্ধারণ করবে মহাকাশ যুগের নতুন দোর কোন দেশগুলোর জন্য খুলে যাবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর সর্বশেষ খবর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি - এর সব খবর

উ
প
রে