×
ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে ১.৫৮ বিলিয়ন ইউরো ক্ষতি বাংলাদেশের

২০২৬ অক্টোবর ১৮ ১৮:২৪:৪২
ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে ১.৫৮ বিলিয়ন ইউরো ক্ষতি বাংলাদেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পোশাকের বাজারে চলতি ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) চরম ধাক্কার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। এই সময়ে শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি বাজারভিত্তিক শেয়ার হারিয়েছে। রপ্তানির পরিমাণ এবং পণ্যের গড় দাম দুটোই আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় এই আট মাসে বাংলাদেশের আয় কমেছে প্রায় ১.৫৮ বিলিয়ন ইউরো (১৫৮ কোটি ইউরো)।

ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস’ (বিএভি) জানায়, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে ইইউ-এর ২৭টি দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১১.৬৭ শতাংশ কমে ১১.৯৩ বিলিয়ন ইউরোতে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৩.৫০ বিলিয়ন ইউরো। ইইউ-এর সার্বিক পোশাক আমদানি যেখানে মাত্র ৩.৮৩ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে তার প্রায় তিনগুণ গতিতে। ফলে ইইউ বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব ২১.৫৪ শতাংশ থেকে কমে ১৯.৭৮ শতাংশে নেমে এসেছে।

বিএভি-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মহিউদ্দিন রুবেল জানান, অর্ডারের পরিমাণের চেয়ে পোশাকের দাম অতিরিক্ত কমে যাওয়াটাই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পরিমাণের দিক থেকে রপ্তানি ৪.৫৮ শতাংশ কমে ৮৬৬.৭৬ মিলিয়ন কেজিতে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য ৭.৪৩ শতাংশ কমে ১৩.৭৬ ইউরোতে নেমে এসেছে, যা গত বছর ছিল ১৪.৮৭ ইউরো।

বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি যতটা চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে, চীন ও ভিয়েতনাম সে তুলনায় তাদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে। ইইউ-এর পোশাক আমদানির চাহিদা সার্বিকভাবে কম থাকা সত্ত্বেও সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী হিসেবে চীন তাদের রপ্তানি ২.৩৮ শতাংশ বাড়িয়ে ১৯.৭১ বিলিয়ন ইউরোতে উন্নীত করেছে। এতে চীনের বাজার শেয়ার ৩০.৭১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২.৭০ শতাংশ হয়েছে।

অন্যদিকে, ভিয়েতনামের রপ্তানির পরিমাণ (ওজন) ৫.১৩ শতাংশ কমলেও, তারা কম পণ্য বেশি দামে বিক্রি করে আয় বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য ১০.১১ শতাংশ বাড়িয়ে (২৮.৮২ ইউরো) দেশটির মোট আয় ৩.০০ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে, যার মাধ্যমে ইইউ বাজারে ভিয়েতনামের শেয়ার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৯৮ শতাংশে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর (যেমন শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, ভারত ও পাকিস্তান) রপ্তানিও নিম্নমুখী ছিল, তবে শতকরা আয়ের বিচারে বাংলাদেশের মতো এত বড় ধস কোনো দেশের ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। এমনকি প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্যের বিচারেও চীনা (১৯.৮২ ইউরো) ও ভিয়েতনামী (২৮.৮২ ইউরো) পোশাকের চেয়ে বাংলাদেশি পোশাক (১৩.৭৬ ইউরো) অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

তবে আশার কথা হলো, পুরো আট মাসের সামগ্রিক মন্দা সত্ত্বেও আগস্ট মাসে এসে ইউরোপীয় বাজারে সামান্য ইতিবাচক বার্তা দেখা গেছে। আগস্ট ২০২৫-এর তুলনায় ২০২৬ সালের আগস্টে ইইউ-এর মোট পোশাক আমদানির মূল্য ০.৭২ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমতে শুরু করলেও বিশ্ববাজারে ঘুরে দাঁড়াতে হলে বাংলাদেশকে একদিকে যেমন শিপমেন্টের পরিমাণ বাড়াতে হবে, অন্যদিকে পণ্যের দরপতন রোধে কঠোর কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে